দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: অ্যাম্বুল্যান্সের কর্মী তিনি। দু’বেলা অসুস্থ মানুষদের চিকিৎসার জন্য পৌঁছে দেন হাসপাতালে। সেই অ্যাম্বুল্যান্স কর্মীকেই একঘরে করার অভিযোগ উঠল তাঁর পড়শিদের বিরুদ্ধে। এমনকী তৃণমূলের একাংশও তাঁকে বাড়ি ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন খন্যানের হরিদাসপুরের বাসিন্দা ওই তরুণী। এমনকী কল থেকে পানীয় জল নিতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে তাঁদের।
বেশ কয়েকবছর ধরে পান্ডুয়ার ১০২ অ্যাম্বুল্যান্সের অ্যাটেন্ড্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন ওই তরুণী। তাঁর অভিযোগ, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হতেই তাঁর কাজ নিয়ে আপত্তি করা শুরু করেন গ্রামের লোক। অ্যাম্বুল্যান্সে করে্ রোগীদের নিয়ে যাতায়াত করেন বলেই মানুষের সন্দেহ তিনি করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘‘গত কয়েক দিন ধরেই নানাভাবে আমাকে কাজে যেতে বারণ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে কাজে গেলে ওখানেই থাকতে হবে। গ্রামে ঢোকা যাবে না। কিন্তু বাড়ি না ফিরে কোথায় থাকব? তাই বুধবার থেকে কলের জল নিতে দেওয়া হচ্ছে না। তৃণমূল পার্টি অফিসের লোকজন এসেও বলে গেছে কাজে যাওয়া বন্ধ করতে হবে। না হলে গ্রামে থাকতে দেওয়া হবে না। আমাদের অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে বলেছিলাম ওঁদের। কিন্তু সেটাও কেউ বলল না।’’
তাঁর বাড়ির লোকজন জানান, স্থানীয় অঙ্গনওয়ারির এক কর্মী দড়ি দিয়ে কলের মুখ বেঁধে দিয়ে গেছে। তাই রান্নার জল পর্যন্ত নিতে পারেননি তাঁরা। তবে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ও পান্ডুয়া পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ অসিত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের দলের নেত্রী সারাদিন ঘুরে করোনা নিয়ে সতর্ক করছেন মানুষকে। যারা করোনা রুখতে কাজ করছেন, চিকিৎসক-সহ সেই সমস্ত স্বাস্থ্য কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তাই কোনও তৃণমূল কর্মী এমন কাজ করতে পারে বলে বিশ্বাস করি না। পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি ওই অ্যাম্বুল্যান্স কর্মী ও তাঁর পরিবার যাতে সুস্থভাবে এলাকায় বসবাস করতে পারেন তার সমস্ত ব্যবস্থা করতে।’’
কয়েকদিন আগে ছুটি নিয়ে রানাঘাটের নোয়াপাড়া এলাকার বাড়িতে গিয়েছিলেন বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের এক নার্স। করোনা রোগীদের সংস্পর্শে রয়েছেন বলে তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেয় গ্রামের লোকজন। এরপর রানাঘাট থানার হস্তক্ষেপে বাড়িতে ঢুকলেও বেনজির সামাজিক বয়কটের মুখে পড়তে হয় ওই নার্স, তাঁর মা এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বোনকে। পাড়ার কলে জল পর্যন্ত নিতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
এই ঘটনা জানার পরেই বুধবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এই ধরনের কাজ যারা করছে তারা ঠিক করছে না। ভগবান না করুন, আজ যদি আপনার বাড়িতে কারও এই অসুখ করে? তখন কী হবে? কে চিকিৎসা করবে?" মমতা বলেন, "আমি পলিটিক্স ছাড়াও মানবিকতা করি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ওই নার্সকে সরকারি আবাসনে থাকতে দেওয়া হবে। এরকম স্পেশাল কেস এলে আমরা আবার সিদ্ধান্ত নেব।"
করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাই চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বারবার কুর্নিশ জানিয়েছেন। কিন্তু তাও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছেই। কখনও রানাঘাট তো কখনও খন্যান।