দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান : পাটনা শহরে রহস্যজনকভাবে মারা গেলেন বর্ধমান শহরের এক তরুণী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডলি কর্মকার (১৯) নামে ওই তরুণীর মৃত্যুর পর বুধবার সকালেই তাঁর দেহ নিয়ে বর্ধমানে চলে আসেন তাঁর দিদি মলি। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় দেহটি। তবে বুধবার বিকেল পর্যন্ত দেহের ময়নাতদন্ত হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্ধমান শহরের বড়নীলপুরে বাড়ি তাঁদের। ২০১৮ সালে শ্রীরামপুরে একটি বহুজাতিক সংস্থার মলে কাজ নিয়ে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলেন মলি। দু’মাস পরে বাড়ি ফিরে বোনকেও নিয়ে চলে যান। সেখান থেকেই বাড়ির কাউকে কিছু না জানিয়ে পাটনায় চলে যান তাঁরা। পাটনার কঙ্করবাগ এলাকার হনুমাননগরে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। সেখানেই মঙ্গলবার রাতে ছাদ থেকে পরে মারা যান ডলি।
কীভাবে ডলি ছাদ থেকে পড়ে গেল সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি তার দিদি মলি। বোনের দেহ নিয়ে বাড়িতে ফিরে তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার রাতে ছাদে বসে ফোন করছিলেন তাঁর বোন। তিনি নীচে ছিলেন। আচমকাই কয়েকজন তার ঘরের দরজায় ধাক্কা দেন। দরজা খোলার পর তাঁদের কাছে তিনি জানতে পারেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ডলি। তিনি ছুটে গিয়ে দেখেন তাঁর বোন চিৎ হয়ে পড়ে রয়েছেন। কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। কানে লাগানো হেডফোন।
স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে ডলিকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এরপরেই অ্যাম্বুল্যান্সে করে বোনের মৃতদেহ নিয়ে বর্ধমান রওনা হন মলি। বুধবার সকালে বর্ধমানে পৌঁছোন। ময়নাতদন্তের জন্য ডলির দেহ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে প্রথমে ফিরিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের। পরে বর্ধমান থানা দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফের হাসপাতালে পাঠায়।
গভীর রহস্য দানা বেঁধেছে ওই তরুণীর মৃত্যু ঘিরে। কীভাবে ওই কিশোরী ছাদ থেকে পড়ে গেল? মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত না করেই কীভাবে দেহ ছেড়ে দিল পাটনার ওই বেসরকারি হাসপাতাল তা স্পষ্ট নয়। মৃতার দিদি মলি জানান, তাঁর ধারণা প্রেম নিয়ে জটিলতার জেরে তাঁর বোন আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিশ্চিত নন তিনি। তাঁরা সেখানে কী কাজ করতেন, সেই বিষয়েও মলি কিছু জানাতে পারেননি। এদিন হাসপাতালে দাঁড়িয়ে মৃতার বাবা মানিক কর্মকার বলেন, “২০১৮ সালে মেয়েরা আমাদের কথা না শুনে কাজ নিয়ে বাইরে চলে যায়। আজ সকালেই আমি জানতে পেরেছি মেয়েরা পাটনায় ছিল। ওদের সঙ্গে সেভাবে যোগাযোগ ছিল না আমার বা ওদের মায়ের।”
বর্ধমান থানার পুলিশ জানিয়েছে, এখনও মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে কী করে ময়নাতদন্ত না করেই ডলির দেহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছেড়ে দিল পাটনা পুলিশের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।