দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ছোটবেলায় পাশের গ্রাম কাশীপুর থেকে একটি ছোট লক্ষ্মীঠাকুর কিনে ঝুড়ি করে মাথায় চাপিয়ে বাড়ি এনেছিলেন শিবদাস গুপ্ত। বাড়ির বড়রা সেই লক্ষ্মীঠাকুর প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে লক্ষ্মী আরাধনা শুরু হয় রামপুরের গুপ্ত বাড়িতে। এখন পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে সে পুজো সর্বজনীন।
পূর্ববঙ্গেই মূলত হত কোজাগরীর আরাধনা। এপার বাংলায় কালীপুজোর রাতে অলক্ষী বিদায়ের পরে হত লক্ষ্মীর আরাধনা। কিন্তু স্বাধীনতার পর এই বাংলাতেও ঘরে ঘরে প্রচলন হয় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর। ভাতারের এরুয়ার গ্রাম পঞ্চায়েতের রামপুর গুপ্ত বাড়ির পুজোই যেমন। বাড়ির ছেলে শিবদাস গুপ্তের আনা লক্ষ্মীঠাকুর ৬৫ বছর ধরে পূজিতা হন কোজাগরীর রাতে।
এ বাড়ির প্রবীণ সদস্য চন্দন গুপ্ত বলেন, ‘‘আজ থেকে ৬৫ বছর আগে আমাদের বাড়িতে কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনা শুরু হয়েছিল। বাড়ির ছেলে শিবদাস পাশের গ্রাম কাশীপুরে খেলতে গিয়ে ঝুড়ি করে নিয়ে ফিরেছিল একটি লক্ষ্মীর মূর্তি। বড়রা তখন তা আসনে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।’’ তখন থেকেই গুপ্ত বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো হয়ে আসছে। দিনে দিনে বাড়ে জাঁকজমক। পুজো উপলক্ষে গোটা গ্রামের মানুষ এসে ভিড় করতেন এই বাড়িতে। এখন এই পুজো নামেই পারিবারিক। আসলে তা গ্রামের সর্বজনীন পুজার রূপ নিয়েছে।
বাড়ির কর্তা বিশ্বনাথ গুপ্ত জানান, প্রতিবছরই মহা ধুমধামে পালিত হয় গুপ্ত বাড়ির লক্ষ্মীপুজো। লোক খাওয়ানো, বস্ত্র বিতরণ থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবই হয়। করোনার প্রকোপে এবার আড়ম্বর কম। তবু এ পুজো আজ আর নিছক বাড়ির পুজো নেই। এটা এখন গোটা গ্রামের পুজো। তিনি বলেন, ‘‘১১০ জন দুস্থ মানুষকে বস্ত্র বিতরণ করা হল আজ। প্রতিবছর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই বছর করোনা পরিস্থিতিতে তা আর করা হচ্ছে না। তবে সোস্যাল ডিসট্যান্স মেনে ছ' শো গ্রামবাসীকে ভোগ বিতরণ ও ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।’’
বাড়ির মেয়ে অনিমা যশের আক্ষেপ করোনার কারণে এবার গুপ্ত বাড়ির পুজো এবারে ম্লান। দেবীর কাছে তাঁদের প্রার্থনা, দ্রুত কেটে যাক এই দুর্যোগের মেঘ।