দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর : এনআরসি-সিএএর সমর্থনে অভিনন্দন যাত্রায় বেরিয়ে বেজায় বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিলেন রায়গঞ্জের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। শহরের ইন্দিরা কলোনিতে বিক্ষোভের তাত ছিল এতটাই যে, যে কর্মসূচি শেষ না করেই ফিরে যেতে হয়েছিল তাঁকে। তেমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে তারজন্য এবার সজাগ-সতর্ক বিজেপি নেতৃত্ব।
শনিবার এনআরসি-সিএএর সমর্থনে ডালখোলায় অভিনন্দন যাত্রা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের। সেই যাত্রাপথকে নিষ্কন্টক করতে হাইটেক প্রযুক্তি নিয়ে এল দল। বিজেপির বাছাই করা কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হল ওয়াকিটকি। কোথাও কোন গন্ডগোলে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তা জেনে যাবেন অন্যরা। এই ওয়াকিটকি নিয়ে পথে নেমে পড়েছেন ওই কর্মকর্তারা।
ওয়াকিটকি ব্যবহার করে ইতিমধ্যেই অভিনন্দন যাত্রায় অংশ নিতে আসা বিভিন্ন মিছিল ও কর্মী সমর্থকদের নিয়ে আসা গাড়িগুলো নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেছেন বিজেপির কর্মকর্তারা। দলীয় সূত্রে খবর যে সব কর্মকর্তার হাতে এই ওয়াকিটকি দেওয়া হয়েছে তাদের আগাম প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বিভিন্ন কেন্দ্রীয় বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জওয়ানরা। এমনই একজন অবসরপ্রাপ্ত সিআরপিএফ জওয়ান গৌতম দে বলেন, “কর্মক্ষেত্রে এই ওয়াকিটকি ব্যবহারের অভ্যেস আমাদের আছে। এ বার দলের একজন কর্মী হিসেবে এই ওয়াকিটকি ব্যবহার শেখালাম দলের অন্য কার্যকর্তাদের। এত বড় মিছিল নিয়ন্ত্রণে অনেক সুবিধা হবে।”
দলের জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী বলেন, “দলের অভিনন্দন যাত্রা নির্বিঘ্ন করতেই ওয়াকিটকি ব্যবহার করছি আমরা। এতে মিছিলের কোনও অংশে কোনও হামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে অন্য প্রান্তে থাকা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। এ রাজ্যে এ ছাড়া আর উপায় নেই। এখানে পুলিশের উপরেও আমাদের কোনও ভরসা নেই। বেশিরভাগ জায়গায় মিছিল-সভা করার অনুমতি মিলছে না। তার উপর শাসক দলের হামলা। বাধ্য হয়েই এ বার নিজেদের যোগাযোগ বাড়াতে এই ওয়াকিটকি নিয়ে নামলাম আমরা।”
এই প্রসঙ্গে বিক্ষোভের জেরে গত ১৫ জানুয়ারি রায়গঞ্জে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরির কর্মসূচি বানচালের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
ডালখোলা পুরসভার যুগ্ম প্রশাসক ও তৃণমূল জেলা কমিটির সদস্য সুভাষ গোস্বামী অবশ্য বলেন, "এটা পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। পুলিশ যদি জ্যাম না ছাড়াতো তবে আজ ডালখোলায় ওদের কর্মসূচিই হত না। চার-পাঁচটা ওয়াকিটকি নিয়ে এখন লোক দেখানো পাগলামি করছে।"