দ্য ওয়াল ব্যুরো, বোলপুর: সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের জুন-জুলাই মাস নাগাদ ন্যাকের পরিদর্শনকারী দল আসতে পারে বিশ্বভারতীতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে খবর এমনই। শেষবার ন্যাকের বিচারে 'বি গ্রেড' পেয়েছিল বিশ্বভারতী। সেই মূল্যায়নকে 'হতাশাজনক' বলে মেনেছিলেন তদানীন্তন কর্মকর্তারা। সেই মূল্যায়নের সময়সীমা ২০২০ সালে শেষ হলেও অতিমারীর কারণে এবার বাড়তি সময় মিলেছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের 'এনআইআরএফ' র্যাঙ্কিংয়েও ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে ঐতিহ্যময় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সাম্প্রতিক অতীতে বিশ্বভারতীকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। এরই মাঝে সামনেই আবার ন্যাকের মূল্যায়ন। এমন অবস্থায় 'বি গ্রেড' থেকে 'এ গ্রেড'-এ উঠতেই হবে -- সেই লক্ষ্য নিয়ে ভাল কিছুর আশা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে জোর দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালে শেষবার ন্যাকের বিশেষজ্ঞ দল বিশ্বভারতী পরিদর্শনে এসেছিলেন। তারপরই গ্রেড প্রকাশিত হয়। এরই মাঝে প্রায় তিন বছর বিশ্বভারতীতে কোনও স্থায়ী উপাচার্য ছিলেন না। আইনি বাধার কারণে অস্থায়ী উপাচার্যরা অনেক কিছুই করে উঠতে পারেননি। তৈরি হয়েছিল একাধিক শূন্যপদ, আটকে ছিল পদোন্নতি। দীর্ঘ টানাপড়েনের পর বিশ্বভারতীর স্থায়ী উপাচার্য হিসেবে বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী যোগ দেন। ন্যাকের পরিদর্শনের কথা মাথায় রেখে ২০১৯ সালেই একটি কোর কমিটি তৈরি হয়। শুরু হয় 'বিশ্বভারতী লেকচার সিরিজ'।
গত ১৫ জানুয়ারি থেকে অনলাইনে শুরু হয়েছে 'বিশ্বভারতী ইয়ং স্কলার্স লেকচার সিরিজ'। বর্তমান পড়ুয়ারা যাতে ক্যাম্পাসিংয়ের মাধ্যমে চাকরি পান সেই জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ‘ডেপুটি ফিল্ড অফিসার’ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে কিছুদিন আগেই। নতুন নিয়োগের দিকেও নজর দিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ১২৬ জন ফ্যাকাল্টি এবং ২৯ জন নন ফ্যাকাল্টি নিয়োগ করা হবে এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। লকডাউন পর্বে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে ভারতবর্ষের বিভিন্ন অংশ থেকে ৩২ জন ফ্যাকাল্টি নির্বাচিত হয়ে বিশ্বভারতীতে যোগ দিয়েছেন। বছর জুড়ে প্রায় ১৫০ জন নতুন ফ্যাকাল্টির যোগদানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শুধুমাত্র শিক্ষাগত দিক নয়, সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাস বাঁচাতে একাধিক বাইপাস রাস্তা তৈরি হচ্ছে। এই নিয়েও বিতর্ক তৈরি হওয়ায় আশাহত তাঁরা। সম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৩০টি নতুন কোয়ার্টার তৈরি হয়েছে। ১৬টি নতুন কোয়ার্টার তৈরির কাজ চলছে। দুটি নতুন ছাত্রাবাস তৈরি হচ্ছে যেটির একটি ছাত্রীদের জন্য, অন্যটি ছাত্রদের জন্য। ২০০ জন করে থাকতে পারবেন সেখানে। কলাভবন, পল্লীসংগঠন বিভাগের অতিরিক্ত অংশ তৈরি হবে। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শিক্ষাভবনের জন্যও নতুন ভবন তৈরির অনুমোদন মিলেছে। বিশ্বভারতী সূত্রের খবর, অধ্যাপক-শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা, গবেষণাগারের পরিকাঠামো, হস্টেলের সংখ্যা ও নিরাপত্তা, হিসাব রাখার ব্যবস্থায় গলদ এমন নানা খুঁটিনাটি বিষয় খুঁটিয়ে দেখেন পরিদর্শনকারীরা। কাজেই সবদিক নিখুঁত রাখার চেষ্টাই করা হচ্ছে কর্তৃপক্ষের তরফে।
কোর কমিটি সূত্রে খবর, আগামী মার্চ মাসের মধ্যে 'সেলফ স্টাডি রিপোর্ট' জমা দিতে হবে তাঁদের। তার মাস দুয়েকের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে আসবেন বিশেষজ্ঞ দল।
বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা জানালেন, বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু বন্ধ তাই অনলাইন মাধ্যমেই ‘স্টুডেন্ট সাটিসফ্যাকশন সার্ভে’ শুরু হয়েছে ন্যাকের জন্য। ইমেলে গুগল ফর্মের মাধ্যমে সেই সার্ভে রিপোর্ট জমা করছেন তাঁরা। আশ্রমিকদের একাংশের মত, নতুন করে আর কোনও বিতর্কের সৃষ্টি যাতে না হয় সেদিকেও যত্নবান হতে হবে বিশ্বভারতীকে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বস্তরের আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হলেই অনেক সমস্যার সূত্রপাতই হবে না। তাতে সকলেরই মঙ্গল।