দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: করোনা পরিস্থিতিতে নতুন করে আউশগ্রামের সরগ্রাম স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করার দাবি জোরদার হল। ১৯৯২ সালে স্থানীয় গ্রামবাসী গোলাম মুন্সি সরগ্রামে একটি আধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির জন্য নিজের পাঁচ বিঘে জমি দান করেন। পরবর্তীকালে মোট ৬৩ বিঘে জমির ওপর তৈরি হয় এই স্বাস্থ্য কেন্দ্র। প্রথম দফায় ২০টি বেডের আধুনিক সুবিধাযুক্ত ইন্ডোর ও আউটডোর বিভাগ চালু হয়।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, সরকারিভাবে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০০ বেডে উন্নীত করার কথাও ঘোষণাও করা হয়। একইসঙ্গে ইন্ডোর পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রায় কোটি টাকার বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতিও নিয়ে আসা হয়। চালুর পরিকল্পনা হয় শিশু বিভাগ ও প্রসূতি বিভাগও। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় দু’দশক পরেও এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইন্ডোর পরিষেবা চালু হয়নি। বহির্বিভাগ চালু থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই কম।
২ নম্বর ব্লকের এড়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের সরগ্রামের বাসিন্দা পারি বাগদি, নবকুমার রায়, সৈয়দ হোসেন মল্লিকরা জানান এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর আশপাশের প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ নির্ভরশীল। বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখানোর জন্য এখানেই আসেন তাঁরা। কিন্তু ভর্তি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেই তাঁদের ছুটতে হয় বর্ধমান। অথচ অপারেশন থিয়েটার-সহ সমস্ত রকম পরিকাঠামো থাকলেও গ্রামবাসীরা তার সুযোগ পাচ্ছেন না।
কী কারণে অন্তর্বিভাগ চালু হয়নি তা জানা নেই গ্রামবাসীদের। তাই তাঁরা চাইছেন অবিলম্বে চালু হোক এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। গ্রামবাসীরা জানান, চলতি করোনা আবহে এই ৩০টি গ্রামের মানুষ আরও অসহায় হয়ে পড়েছেন। কোভিড টেস্টের জন্য তাঁদের বর্ধমানে ছুটতে হচ্ছে। তাঁরা বলেন, ‘‘পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি। নষ্ট হচ্ছে ২০টি বেড। তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীদের জন্য তৈরি হওয়া কোয়ার্টার্সও। আউটডোর চালু থাকায় একজন আরএমও আসেন। তাঁর কাছ থেকেই প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়া যায়। কিন্তু ভর্তি হয়ে চিকিৎসার দরকার হলে ছুটে যেতে হয় বর্ধমান।’’
বিষয়টি নিয়ে জেলা সভাধিপতি শম্পা ধাড়া বলেন, ‘‘কেন এই রকম ভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পড়ে রয়েছে খোঁজ খবর নেব। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হবে।’’