দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: ভোট আসে ভোট যায়। এলাকার মানুষদের প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজনীতিবিদরা কথা রাখেন না। এমনটাই অভিযোগ মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নম্বর ব্লকের মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়াডাঙি গ্ৰামের বাসিন্দাদের। তাঁরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আবেদন-নিবেদন জানিয়েও গ্রামের বেহাল কাঁচা রাস্তাটি পাকা হল না। প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিরা সব জেনেশুনেও উদাসীন। তাই রাস্তা সংস্কার না হলে তাঁরা বিধানসভা নির্বাচনে ভোট বয়কট করার হুঁশিয়ারি দিলেন।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘ ২ কিলোমিটার পঞ্চায়েত রাস্তা বেহাল অবস্থায় রয়েছে। কোনও সংস্কার হয়নি। এই রাস্তা ধরে হরিশ্চন্দ্রপুরের পাঁচ-ছ’টি গ্রামের মানুষকে যেতে হয় তুলসিহাটা ব্যাঙ্ক, হাসপাতাল ও বাজারে। মহেন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তে যেতে হয় ছাত্র-ছাত্রীদের। এছাড়াও উৎপাদিত পণ্য নিয়ে কৃষকদের যাওয়া-আসা করতে হয় এই রাস্তা দিয়েই। পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে। সরকারের দেওয়া সবুজ সাথী সাইকেল থাকলেও রাস্তা বেহাল হওয়ায় পায়ে হেঁটেই যেতে হয় স্কুলে। একরকম তিতিবিরক্ত হয়েই এলাকাবাসীরা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট বয়কট করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ইন্দ্রমোহন দাস বলেন ‘‘পঞ্চায়েত প্রধান, মেম্বার ও বিডিওকে রাস্তাটি সংস্কার করানোর জন্য বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কেউ কথা শোনেননি। আমরা দিনমজুর খেটে খাই। রাস্তার এইরকম অবস্থা হলে কীভাবে কাজ করব। সময় ও পরিশ্রম দুটোই বেকার হয়ে যায়। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবারের ভোট বয়কট করব।’’
আর এক বাসিন্দা শুক দাস জানান, বহু বছর থেকে এই রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্ষা আসতেই রাস্তায় জল জমে দুর্গন্ধ ছড়ায়। মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যায়। গ্রামে অ্যাম্বুল্যান্স ঢুকতে পারে না। গ্রামের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে খাটে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাস্তা সংস্কার না হলে কেউ আর এবার ভোট দেব না।
মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা নীতা দাসের স্বামী পঙ্কজকুমার দাস জানান, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে ৩.৪৭ লক্ষ টাকা খরচ করে বনসরিয়া থেকে কমিউনিটি হল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কথা হয়েছিল। কিন্তু অর্থাভাবে তা করা যায়নি। এর পরিবর্তে সব থেকে বেহাল ৮০ মিটার রাস্তা কংক্রিটে ঢালাই করে দেওয়া হয়েছে।
হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লকের বিডিও অনির্বাণ বসু বলেন, ‘‘এমজিএনআরইজিএস প্রকল্প থেকে তিন লক্ষ টাকা করে দু’টি স্কিম ধরা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি পেলেই শীঘ্রই রাস্তার কাজ শুরু হবে।’’