দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: দামোদর নদের বাঁধের উপর এখন পরিযায়ী শ্রমিকদের ঢল। বাঁধ ধরে পায়ে হেঁটে চলেছেন কেউ। কেউ কোনওমতে জুটিয়েছেন একটা সাইকেল।
কেউ যাচ্ছেন বিহার, কেউ ঝাড়খণ্ড, কেউ ছত্তিশগড়। কেউ আবার উল্টোদিকে লাল সুড়কির উপর দিয়ে যাচ্ছেন মুর্শিদাবাদের দিকে। পরণের পোশাক জীর্ণ, চোখে মুখে গভীর ক্লান্তি। কবে শেষ ভাত খেয়েছেন ভুলে গেছেন নিজেরাই। শ্রান্ত শরীর। তবু লক্ষ্য একটাই। বাড়ি ফিরতে হবে।
এই পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন মেমারির বাসিন্দাদের একাংশ। মেমারির দলুইবাজার এলাকার পশ্চিমপাল্লার মানুষজন নিজেদের সামর্থ্য ও সঞ্চয় নিয়ে পথে নেমেছেন। দামোদর নদের পাড়ে অভুক্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য রান্না করছেন তাঁরা। তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়ে দু'দণ্ড থামছেন পরিযায়ী শ্রমিকের দল। বিশ্রাম নিচ্ছেন, স্নান সারছেন দামোদরের জলে। খাওয়া সেরে বিশ্রাম নিয়ে আবার রওনা হয়ে যাচ্ছেন গন্তব্যের দিকে।
করোনা রুখতে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় ভিনরাজ্যে আটকে পড়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকের দল। নানা সমস্যায় জেরবার হয়ে ঘরে ফিরতে মরিয়া তাঁরা। তাই পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে যাত্রা শুরু করেছেন কেউ কেউ। বৈশাখের দাবদাহ, ঝড় বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল পেরিয়ে বাড়ির পথ ধরেছেন তাঁরা। পশ্চিমপাল্লার বাসিন্দা সন্দীপ সাঁতরা বলেন, ‘‘গত কয়েকদিন ধরেই দামোদরের বাঁধের উপর ঘরে ফিরতে চাওয়া মানুষের ঢল। কোনওমতে শরীরটাকে টেনে নিয়ে চলেছেন তাঁরা। এঁদের পাশে দাঁড়াতেই আমরা গ্রামের মানুষ একজোট হয়েছি।’’
গ্রাম থেকে বেশ কিছুটা দূরে নদীর ধারে কাঁঠাল বাগান। সেখানেই পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা। খাবার মেনুতে থাকছে ভাত, ডাল, সবজি, চাটনি। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মাংস, মাছ, ডিমও। সন্দীপবাবু জানান, এখনও পর্যন্ত মোট ১১০০ পরিযায়ী শ্রমিকের কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন তাঁরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখেই চলছে এই কাজ। খাবার আগে স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে প্রত্যেককে। স্নানের জন্য রাখা হয়েছে সাবান। কেউ যদি খাবার সঙ্গে নিয়ে যেতে চান, তাঁর জন্যও প্যাকিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
অজানা পথে এমন আন্তরিকতায় ভাষাহারা সুবল সর্দার, রাকেশ শর্মার মতো ঘর ফিরতি শ্রমিকরা।