দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: আউশগ্রামের পর এবার লকডাউনের জেরে উৎসবের ধুমধাম বাতিল করা হল ভাতারে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিয়মরক্ষা করা হল সাড়ে পাঁচশো বছরের পুরনো ধর্মরাজের গাজন উৎসবের।
ফি বছর ভাতারের রায়রামচন্দ্রপুর গ্রামে বুদ্ধ পূর্ণিমায় ধর্মরাজের গাজন উৎসব হয়। কোটরায় নামেও পরিচিত মন্দিরের কষ্টিপাথরের এই বিগ্রহ। তিন দিন ধরে গ্রামে মেলা বসে। গ্রামের মানুষ নিমন্ত্রণ করেন আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধবদের। কর্মসূত্রে যাঁরা গ্রামের বাইরে থাকেন তাঁরাও গাজনে বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু এ বছর সব উল্টেপাল্টে গেছে। তিন দিন ধরে পুজো প্রাঙ্গণে জলসা, যাত্রা- সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আসর বসে। গোটা গ্রাম উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠে। এবার সব ফিকে।
করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে গোটা বিশ্বে লকডাউন চলছে। এ দেশেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও এখনও পর্যন্ত তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই এবার গ্রামের মানুষজন বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেন পুজো হবে। তবে কোনও অনুষ্ঠান করা হবে না। মেলা বা জলসার আসর বসবে না।
পুজো কমিটির সদস্য অভিজিৎ মুখার্জি বলেন, ‘‘প্রতিবছর বুদ্ধ পূর্ণিমার আগের দিন থেকে পুজো শুরু হয়। আর পূর্ণিমার দিন কমবেশি ৪০ জন ভক্ত গ্রামের বড়দিঘি বা বড়পুকুরে স্নান করে সেখান থেকে ভাড়াল মাথায় করে ধর্মরাজের মন্দিরে নিয়ে যায়। ভাড়াল বলতে মাটির হাঁড়িতে চাল রাখা হয়। মন্দির প্রাঙ্গনে সেই চালেই রান্না হয় ভোগ।এটাই গ্রাম্য রীতি। বছর বছর এই রীতিই চলে আসছে।’’
এ বার শুধু পুজোটুকু হয়েছে। মন্দিরের পুরোহিতরা সামাজিক দূরত্ব মেনে পুজো করেছেন। কথিত আছে কোটরায়ের নাম থেকেই গ্রামের নাম রায়রামচন্দ্রপুর।