দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: আমতা-উলুবেড়িয়া রোডের পাশে একটি পরিবারকে উচ্ছেদ করতে গিয়েছিল পুলিশ। আচমকাই সেখানে গায়ে আগুন লেগে যায় ওই পরিবারের এক বধূর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় উলুবেড়িয়া হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে সাবিরা বেগম নামে বছর তিরিশের ওই বধূকে।
এই ঘটনার পরে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় উলুবেড়িয়ার রাজাপুরে। সাবিরার বাড়ির লোকের অভিযোগ, উচ্ছেদে বাধা দেওয়ায় পুলিশই তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পুলিশের একাংশ এই ঘটনাকে আত্মহত্যার চেষ্টাই বলছেন। তবে হাওড়া গ্রামীণ জেলার পুলিশ সুপার সৌম্য রায় এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চাননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬০ বছর ধরে আমতা-উলুবেড়িয়া রোডের পাশে ওই সরকারি খাস জমিতে বসবাস করছে সাহলেয়াত বিবির পরিবার। সম্প্রতি আদালত থেকে ওই পরিবারকে উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়। বুধবার দুপুরে পুলিশ উচ্ছেদ অভিযানে আসে। সাহলেয়াত বিবির অভিযোগ, এক সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু কেউ কোনও কথা শোনেননি। তিনি বলেন, “ওদের হাতে ধরে বারবার বলছিলাম, সবকিছু ভেঙে না দিতে। এমনিতেই সরে যাব। কিন্তু আমাকে টানতে টানতে সরিয়ে দেয় ওরা। তখনই আমার ছেলে আগুন আগুন করে চেঁচিয়ে ওঠে। দেখি আমার ছেলের বউয়ের গায়ে আগুন জ্বলছে। পুলিশই ওঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।”
এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।