দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: গণবিবাহকে কেন্দ্র করে হুলুস্থুল পুরাতন মালদহে। টাকার টোপ দিয়ে আদিবাসী যুবক যুবতীদের একাংশকে গণবিবাহে সামিল করার অভিযোগ উঠল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বিরুদ্ধে। আদিবাসীদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও রীতি না মেনেই এই বিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তুলে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন আদিবাসী সমাজ ও ঝাড়খন্ড দিশম পার্টির সদস্যরা। এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েতের আটমাইল এলাকায়।
বিক্ষোভকারী এবং গণবিবাহের সামিল হওয়া যুবক-যুবতীদের আত্মীয়দের মধ্যে বচসা শুরু হয়ে যায়। দুই পক্ষই একে অপরকে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পুরাতন মালদহ থানার আইসি শান্তিনাথ পাঁজা বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পুরাতন মালদহের ভিডিও ইরফান হাবিবও। কিন্তু পরিস্থিতি বাগে আনতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটে এক পুলিশকর্মীও জখম হয় বলে অভিযোগ।
আদিবাসীরা এই গণবিবাহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়। একইভাবে ওই গণবিবাহের সামিল হওয়া যুবক-যুবতীদের আত্মীয়রা বিয়ে চালিয়ে যাওয়ার দাবিতে পুলিশের সামনে প্রতিবাদে সরব হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুরাতন মালদা থানার আইসি শান্তিনাথ পাঁজা এবং বিডিও ইরফান হাবিবের নেতৃত্বে শান্তি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু কোনভাবেই আদিবাসীদের বিক্ষোভ সামাল দিতে পারেননি পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। পরে পুলিশি ঘেরাটোপের মধ্যেই বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয় বলে সূত্রের খবর। তবে বিকেল পর্যন্ত আদিবাসীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে আটমাইল এলাকার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাখেন।
এ দিন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ধর্ম প্রচার বিভাগের উদ্যোগে বিশ্বশান্তি যজ্ঞ ও হিন্দু সংস্কৃতি সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিল আটমাইল এলাকায়। গণবিবাহের আয়োজন করা হয়েছিল সেখানেই। প্রথমদিকে গণবিবাহের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। পরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বিরুদ্ধে এই গণবিবাহের মাধ্যমে ধর্মান্তকরণ করার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ-অবরোধে সামিল হন ঝাড়খন্ড দিশম পার্টির শতাধিক সদস্য।
পুরাতন মালদার আদিবাসী সমাজ ও ঝাড়খন্ড দিশম পার্টির রাজ্য সহ-সভাপতি মোহন হাঁসদার অভিযোগ, আদিবাসী সমাজের রীতি সংস্কৃতির তোয়াক্কা না করেই গণবিবাহের আয়োজন করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। ওই যুবক-যুবতীদের পরিবারকে ১২ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তিনি বলেন, “আমরা আদিবাসীদের শাস্ত্র অনুযায়ী বিয়ে করানোর দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও কথাই উদ্যোক্তারা মেনে নেননি। এতে আদিবাসী সমাজকে ছোট করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেছি। তখন গণবিবাহের উদ্যোক্তারা আমাদের উপর চড়াও হয়েছে।”
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ধর্ম প্রচার বিভাগের জেলা সভাপতি মলয় মুখার্জি বলেন, “আদিবাসী ভাই-বোনেরা আমাদের সমাজের একটি অঙ্গ। ওদেরকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। এখানে কোনও রকম ধর্মান্তকরণের বিষয় নেই। যাদের অনুষ্ঠান করে বিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য নেই। সেইসব দুঃস্থ যুবক-যুবতীদের এদিনের গণবিবাহে সামিল করানো হয়েছে। এলাকার আদিবাসীদের কেউ কেউ ভুল বুঝিয়ে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করেছে। আমরা পুরো বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের অনুষ্ঠান চালাতে সাহায্য করে।”
পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, “গণবিবাহকে ঘিরে একটা অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। তবে পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”