ফের বিক্ষিপ্ত অশান্তি ভাটপাড়ায়, চলছে হুমকি-পাল্টা হুমকি
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : ভাটপাড়া পুরসভা তৃণমূল পুনরুদ্ধারের পরেই অশান্তি ছড়াচ্ছে ভাটপাড়ায়। মঙ্গলবার রাতে গোলঘোর সুন্দিয়া মোড়ে দখল হয়ে যাওয়া একটা পার্টি অফিস তৃণমূল কর্মীরা পুনর্দখল করতে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বুধবার সকালে একই ঘটন
শেষ আপডেট: 22 January 2020 09:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : ভাটপাড়া পুরসভা তৃণমূল পুনরুদ্ধারের পরেই অশান্তি ছড়াচ্ছে ভাটপাড়ায়। মঙ্গলবার রাতে গোলঘোর সুন্দিয়া মোড়ে দখল হয়ে যাওয়া একটা পার্টি অফিস তৃণমূল কর্মীরা পুনর্দখল করতে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বুধবার সকালে একই ঘটনা ঘটে ভাটপাড়ার রিলায়েন্স জুটমিলের সামনে। এখানে বিজেপির শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা পুনর্দখল করতে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ এলে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে বিজেপির সমর্থক শ্রমিকরা। তাঁদের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত থেকে এলাকার বাসিন্দাদের শাসাচ্ছে তৃণমূলের কর্মীরা। পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেয়। ঘটনার পরেই এলাকায় আসেন ভাটপাড়ার বিধায়ক পবন সিং। তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা না নিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য থানা ঘেরাও এবং পথ অবরোধ চলবে বলে হুমকি দেন তিনি।
তবে তৃণমুলের ভাটপাড়ার অবজারভার দেবজ্যোতি ঘোষ বলেন, “এইসব পার্টি অফিসগুলি তৃণমুলের ছিল। বিজেপি দখল করেছিল। এখন আর ওখানে ওদের বসার লোক নেই, তাই নিজেরাই চাবি দিয়ে যাচ্ছে।”

আদালতে দীর্ঘ টানাপড়েনের পর ভাটপাড়া পুরসভায় তৃণমূলের জয়ে সিলমোহর দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। মঙ্গলবার ভাটপাড়া পুরসভায় নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন হয়। ২৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন চেয়ারম্যান হন।
অর্জুন সিং বিজেপির সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরেই রাতারাতি বিজেপির দখলে এসেছিল ভাটপাড়া পুরসভা। চেয়ারম্যান পদে নিজের ভাইপো সৌরভ সিংকে বসিয়ে দিয়েছিলেন অর্জুন সিং। কিন্তু হালিশহর, কাঁচরাপাড়া, গারুলিয়া, বনগাঁর মতো ভাটপারা পুরসভাও হাতে রাখতে পারেনি বিজেপি।
ভাটপাড়া পুরসভার মোট আসন সংখ্যা ৩৫। অর্জুন সিং সাংসদ হওয়ার পর কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মৃত্যু হয়েছে ভীম সিং নামের এক কাউন্সিলরের। একটি ওয়ার্ড দখলে রয়েছে বামেদের। ফলে বোর্ড গড়তে দরকার ছিল ১৭ জন কাউন্সিলরের সমর্থন। পাঁচজন কাউন্সিলর দল বদল করেননি। তাঁরা তৃণমূলেই রয়ে গিয়েছিলেন। মাঝে বিজেপি ছেড়ে পুরনো দলে ফেরেন ১২ জন কাউন্সিলর। ফলে যে সংখ্যা দরকার বোর্ড গড়ার জন্য সেটা আগেই জোগাড় করে ফেলেছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, পার্থ ভৌমিকরা। পরে আরও দু’জন গেরুয়া সঙ্গ ত্যাগ করে ফিরে আসেন তৃণমূলে। সেই ১৯ জনকে নিয়েই ভাটপাড়া পুরসভা ফের দখল করে নেয় তৃণমূল।
তবে সেই আস্থা ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও টানাপড়েন চলে। প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ ওই আস্থাভোটকে খারিজ করে দেয়। পরে ডিভিশন বেঞ্চ তাতে সিলমোহর দেয়।