শেষ আপডেট: 30 May 2020 12:28
তিনি একা নন, বিঘের পর বিঘে জমির কলাগাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পথে বসেছেন বসিরহাট মহকুমার-হাড়োয়া-মিনাখাঁ- সন্দেশখালি-বাদুড়িয়া-স্বরূপনগর-হিঙ্গলগঞ্জের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কলাচাষিরা। আমফানের পর কেটে গেছে দশদিন। ঝড়ের তাণ্ডবে উপড়ে পড়া গাছ নষ্ট হতে শুরু করেছে নোনা জলে। শুকিয়ে যাচ্ছে পাতা। পচন ধরেছে গাছে। হাড়োয়ার সালিপুর গ্রামের কলাচাষি রবিউল মোল্লা বলেন, ‘‘অনেক টাকা দেনা হয়ে গেছে বাজারে। ঋণ করেই কলাচাষ করেছিলাম। ঝড় বৃষ্টির পরে যখন রোদ উঠেছে, তখন থেকেই গাছের গোড়ায় পচন ধরা শুরু। ঋণ শোধ করা তো দূরের কথা, সংসার চালাতে ঘাম ছুটবে এবার। কোথায় কার কাছে হাত পাতবো, জানি না।’’ হিঙ্গলগঞ্জের জগদীশ প্রামাণিকের মতো হতাশা গ্রাস করেছে রবিউলকেও।
https://www.youtube.com/watch?v=5h2KgRwa-fM
এ দিকে জগদীশ বলছেন, ‘‘আমি জানি না এই দুর্দিনে সরকার আমাদের পাশে দাঁড়াবে কি না। যা জমি, পুরোটায় কলা চাষ করেছিলাম। পুরোটাই তো জলে গেল। এখন খাবই বা কী, আর শুধবোই বা কী? জানি না আর কোনওদিন ঘুরে দাঁড়াতে পারবো কি না?’’
হাড়োয়া ব্লকের বিডিও দীপঙ্কর দাস বলেন, ‘‘উমফানের তাণ্ডবে এই বিস্তীর্ণ এলাকার কলাচাষের ক্ষতি হয়েছে। পেঁপে-আম-লিচু-সহ অন্য ফল গাছেরও ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা সরেজমিনে ঘুরে দেখেছি। উদ্যানপালন বিভাগকেও পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে। চাষিরা বিরাট ক্ষতির মুখে। তবুও তাঁদের বলব, একটু ধৈর্য ধরতে। সবাই যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে তারজন্য সরকার নানা পরিকল্পনা নিচ্ছে। এর সুফল মিলবেই।’’