দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ফের করোনা আক্রান্তের হদিস মিলল পূর্ব বর্ধমানে। ভিন রাজ্য থেকে আসা দুই শ্রমিকের দেহে মিলল এই মারণ ভাইরাস। জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানান, ভাতার ও কাটোয়ার নতুনহাটের দুই বাসিন্দার শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। তাঁদের দুজনের একজন চেন্নাই ও অন্যজন হরিয়ানায় কাজ করতে গিয়েছিলেন।
ভাতারের আক্রান্ত যুবক হরিয়ানায় একটি স্টিল পালিশের কারখানায় কাজ করতেন। হরিয়ানা থেকে দিল্লি হয়ে পাঁচ দিন আগে তিনি গ্রামে ফেরেন। বাড়িতে ফিরলেও কোয়ারেন্টাইনেই ছিলেন ওই যুবক। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁদের লালারসের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপরেই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। ভাতারের আক্রান্ত যুবককে দুর্গাপুরের কোবিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর বাড়ির ৯ জনকে বর্ধমানের ২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বামচাঁদাইপুরের প্রি কোবিড হাসপাতালে পাঠানো হয়। কাটোয়ার যুবককেও পাঠানো হয়েছে কোভিড হাসপাতালে। তাঁদের বাড়ির এলাকা সিল করে দেওয়া হয়েছে।
জেলায় দ্রুত রোগ নির্ণয়ের জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টারেই লালারস সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার পাঁচড়ায়। গোটা জেলায় মোট চারটি লালারস নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রে কাজ শুরু হল। মঙ্গলবার পাঁচড়ায় চালু হওয়া নমুনা সংগ্রহের এই কিয়স্ক পরিদর্শনে আসেন জেলাশাসক বিজয় ভারতী, পুলিশসুপার ভাস্কর মুখার্জি, ও জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রণব রায়।
পাঁচড়ায় কিষাণ মান্ডিতে এই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারটি তৈরি হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিক বা অন্য যাঁরা এই সেন্টারে আসবেন তাঁদের লালারস সংগ্রহ করা হবে। সেগুলি পরীক্ষার জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাঁচড়া ছাড়াও ভাতারের ওড়গ্রাম আইটিআই কলেজ, গলসির ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং মাধবডিহি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নমুনা সংগ্রহের এই নতুন ব্যবস্থা চালু হল। এতে জেলায় কোভিড সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার হল বলেই মনে করছে জেলা প্রশাসন।