তান্ত্রিকের বাড়ি থেকে শিশু উদ্ধার, বাবার বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মায়ের
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: নিজের ১০ বছরের পুত্র সন্তানকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দোসর এক তান্ত্রিকও। ঘটনা ঘিরে বুধবার রাতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় কালিয়াগঞ্জ থানার টুঙ্গইল বিলপাড়ায়। বুধবার রাতেই দুই
শেষ আপডেট: 30 April 2020 12:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: নিজের ১০ বছরের পুত্র সন্তানকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দোসর এক তান্ত্রিকও। ঘটনা ঘিরে বুধবার রাতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় কালিয়াগঞ্জ থানার টুঙ্গইল বিলপাড়ায়। বুধবার রাতেই দুই অভিযুক্তকে আটক করে কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে নাবালকের মা ওই দু’জনের বিরুদ্ধে কালিয়াগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কালিয়াগঞ্জ থানার টুঙ্গইল বিলপাড়া এলাকায় গলিচাঁদ বর্মনের উঁচু বেড়া দিয়ে ঘেরা বাড়ির সামনেই ঘটনার সূত্রপাত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গলিচাঁদ তন্ত্র সাধনা করেন। বুধবার সন্ধেবেলায় তাঁর ঘর থেকে পুজোর মন্ত্র শোনা যাচ্ছিল। একটি ছোট ছেলেকে নিয়ে এক ব্যক্তিকে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেখেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা প্রতুল বর্মন বলেন, ‘‘অনেকক্ষণ ধরে পুজোপাঠের শব্দ পাচ্ছিলাম। একসময় বেড়ায় চোখ লাগিয়ে ভেতরটা দেখতে গিয়েই হাড় হিম হয়ে যায়। দেখি পুজোর বেদির পাশে একটা মস্ত গর্ত খোড়া হয়েছে। সেই গর্তের মধ্যে ঢোকানো হয়েছে বাচ্চা ছেলেটাকে। কিছুক্ষণ পরে তাকে গর্ত থেকে তুলে আবার গর্ত বড় করতে মাটি কোপাতে শুরু করে ওরা। আমি সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশের লোকদের এনে দেখাই। লোকজন জড়ো হওয়ায় বিপদ বুঝে পালাতে চায় দু’জন। তাঁদের আটকে রেখে কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয়৷’’

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তন্ত্রসাধনায় সিদ্ধিলাভের জন্যই ওই ব্যক্তি নিজের সন্তানকে গর্তে পুঁতে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। তাই ছেলেকে নিয়ে ওই তান্ত্রিকের কাছে এসেছিল। ক্লাস ফোরের পড়ুয়া ওই ছাত্র জানায়, তাকে তার বাবা বলেছিল, গর্তের মধ্যে টাকার হাড়ি আছে। সেটা তুলতে হবে। তাই গর্তে নামিয়ে দেওয়া হয়। তার কথায়, ‘‘গর্তে নামতে খুব ভয় করছিল আমার। কিন্তু জোর করছিল ওরা।’’
এই ঘটনা জানাজানি হতে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। শিশুটির মায়ের অভিযোগ পাওয়ার পর গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।