
শেষ আপডেট: 9 January 2020 11:19
পরের দিন অর্থাৎ সোমবার সকালে সুন্দরবন থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন বাঘ বিশেষজ্ঞদের একটি দল। বাঘ ধরার জন্য নিয়ে আসা হয় একটি খাঁচাও। অজ্ঞাত প্রাণীটির পায়ের ছাপ দেখে শুরু হয় বাঘের সন্ধান। প্লাস্টার অফ প্যারিস দিয়ে পায়ের ছাপ থেকে সংগ্রহ করেন বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা। সারাদিনের অনুসন্ধানেও বাঘের দেখা মেলেনি। অবশেষে যেখানে পায়ের ছাপ পাওয়া গিয়েছিল সেখান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মালাবতী জঙ্গলের মধ্যে সাতবাঁকি মৌজায় কালো ছাগল টোপ হিসেবে দিয়ে বিকেলে একটি খাঁচা পাতা হয়। পরদিন সকালে গিয়ে অবশ্য ছাগলটিকে অক্ষতই পান বনদফতরের কর্মীরা।
বেলা গড়াতে জানা যায় বেলপাহাড়ীর সিন্দুরিয়া গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলে নতুন করে পায়ের ছাপ পাওয়া গিয়েছে, যা বাঘের পাযের মতোই। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান রাজ্যের মুখ্য বনপাল (পশ্চিমাঞ্চল) শক্তিশংকর দে এবং ঝাড়গ্রামের ডিএফও বাসবরাজ হলাইচি এবং এডিএফও আশিস মণ্ডল। এলাকা পরিদর্শনের পর মুখ্য বনপাল জানিয়েছিলেন, সেখানে যে পায়ের ছাপটি তাঁরা দেখতে পান তা বাঘের পায়ের ছাপের মতোই দেখতে। কিন্তু যতক্ষণ না ক্যামেরায় তা নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ সেটিকে বাঘের পায়ের ছাপ বলা যাবে না।
বাঘের খোঁজে বুধবার সুন্দরবন থেকে আসা চারজন বাঘ বিশেষজ্ঞকে নিয়ে ঝাড়খন্ড সীমান্ত লাগোয়া কাঁকড়াঝোড় জঙ্গলে বেশ কয়েকটি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসায় বনদফতর।
সাতবাঁকি গ্রামের যুবক তরুণ মাহাত বলেন, “মালাবতী জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় আমাদের বাড়ি। বাড়ি থেকে মাত্র আধ কিলোমিটার দূরে খাঁচা পাতা হয়েছিল। রাতে মশাল জ্বেলে গ্রামের মানুষ এখনও গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন। দিনের বেলাতেও বাঘের ভয়ে গ্রামের কেউ জঙ্গলে পাতা, শুকনো কাঠ আনতে যাচ্ছেন না। পুলিশ ও বনকর্মীরাও বাড়ি বাড়ি এসে বলে গিয়েছে গ্রামের কেউ জঙ্গলে যাবেন না।”
ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা গৌতম পাণ্ডা বন্যপ্রাণ নিয়ে চর্চা করেন। তিনি বলেন,“পাগমার্ক দেখে বাঘের পায়ের ছাপ বলেই মনে হচ্ছে। ওড়িশার সিমলিপালের জঙ্গল থেকে এখানে বাঘ আসতে পারে। জঙ্গলে যখন বাঘের সংখ্যা বেড়ে যায় তখন এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘাতের জেরে বাঘ অন্যত্র চলে যায়।”তাঁর মতে, জঙ্গলমহলে বারবার বাঘ আসা একটি শুভ সঙ্কেত। কারণ, গত দু-তিন বছরে বনভূমি এবং বাস্তুতন্ত্রের শৃঙ্খলার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। পর্যাপ্ত খাদ্যের যোগান থাকার জন্যই বারবার বাঘ এখানে চলে আসছে। জঙ্গলে প্রচুর পরিমাণে বন খরগোশ এবং বন শুয়োর থাকায় মানুষের উপর আক্রমণ হচ্ছে না।