দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: ৩০ জুন পর্যন্ত সাধারণ ট্রেন চলবে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এই খবরে ঘুম ছুটেছে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন সংলগ্ন এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী, গাড়ি চালক ও পর্যটনের সঙ্গে জড়িত মানুষদের।
প্রায় দু’মাস পর রেল দফতর বেশ কিছু স্পেশাল ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন পরিষেবা চালু করায়, অনেকেই ভেবেছিলেন ধীরে ধীরে হয়তো ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক হবে। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে রেল। ৩০ জুন পর্যন্ত কোনও সাধারণ যাত্রীবাহী ট্রেন চলবে না বলে বৃহস্পতিবার এক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। আর এই খবর পেয়েই মুষড়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
একেই দীর্ঘ লকডাউন চলছে। শুনশান এনজেপি স্টেশন। উত্তর–পূর্ব ভারতের মূল প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি হয়েই পর্যটকরা যান পাহাড়- ডুয়ার্স- ভুটান–নেপালে। গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনে প্রতিদিন কয়েক হাজার পর্যটক আসেন। পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল এই এলাকার বেশিরভাগ মানুষ। পর্যটকদের আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রুটিরুজিতে টান পড়েছে বেশিরভাগ মানুষের। কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন, সেই চিন্তায় ঘুম চলে গেছে তাঁদের।
নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন চত্বরে ৩৫টি ট্যুরিজম কোম্পানির অফিস আছে। পাশাপাশি রয়েছে ২৬–২৭টি খাবার হোটেল ও ২০টি লজ। ছোট-বড় মিলিয়ে দোকান রয়েছে, সেও প্রায় প্রায় ১৩৫টি। প্রত্যেককেই নির্ভর করতে হয় পর্যটকদের ওপর। এনজেপি স্টেশন চত্বর ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সঞ্জীব পাল বলেন, ‘‘পর্যটকদের উপরেই নির্ভর করে এখানকার অর্থনীতি। দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন চলছে না। পর্যটকদের আসা-যাওয়াও পুরোপুরি বন্ধ। তাই খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে আছি আমরা। আশা করেছিলাম এবার হয়তো ট্রেন চালু হবে। কিন্তু রেলের বিজ্ঞপ্তিতে আমরা হতাশ।’’
হোটেল ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল গাড়ি ব্যবসায়ীরাও। প্রায় দু’মাস ধরে তাঁদেরও গাড়ির চাকা বন্ধ। রোজগারের অন্য কোনও পথ নেই। গাড়িচালক কাজল বর্মন বলেন, ‘গাড়ির কিস্তি দিতে পারছি না। বাড়িতেও রেশন শেষ। কী হবে জানি না।’’
এনজেপি স্টেশনে ৪০০ সিটি অটো রয়েছে। সেগুলিও বন্ধ। আইএনটিটিইউসি সিটি অটো ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সম্পাদক তাপস সাহা বলেন, ‘‘লকডাউন উঠলেও যতক্ষণ ট্রেন চালু না হবে ততক্ষণ স্বস্তি নেই। স্থানীয় ভাড়ার ওপর নির্ভর করে সমস্যা মিটবে না। একমাত্র রেল পরিষেবা চালু হলেই, স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে এনজেপির ব্যবসায়ীরা।’’
তাই এই মুহূর্তে সেই দিকেই তাকিয়ে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন লাগোয়া বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ।