দ্য ওয়াল ব্যুরো, দার্জিলিং: করোনার আবহ কাটিয়ে একটু একটু করে স্বাভাবিক হচ্ছে দার্জিলিং পাহাড়ও। মুখ ঘুরিয়ে থাকা পর্যটকরা কিছুটা হলেও ভীতি কাটিয়ে পাহাড়ের পথে পা বাড়াচ্ছেন। ক্রিসমাসের আগে থেকেই পর্যটন মরশুম শুরু হয়ে গেছে। চলবে মার্চ-এপ্রিল মাস পর্যন্ত চলবে। এই পরিস্থিতিতে বিমল গুরুং ও বিনয় তামাং শিবিরের টানাপড়েনে পাহাড়ের রাজনীতি তেতে ওঠায় অস্বস্তি বাড়ছে পর্যটকদের।
প্রায় সাড়ে তিন বছর পর পাহাড়ে উঠেছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং। রাজ্য সরকারের প্রত্যক্ষ সাহায্যে আপাতত পাহাড়ে স্বমহিমায় বিরাজ করছেন শতাধিক মামলায় অভিযুক্ত এই গোর্খা নেতা। উল্টোদিকে এতদিন রাজ্য সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করে আসা বিনয় তামাং- অনিত থাপারা কিছুটা হলেও কোণঠাসা। তবে কেউই কাউকে জমি ছাড়তে নারাজ। ২০ ডিসেম্বর বিমল পাহাড়ে ওঠার পর থেকেই প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও জনসভা করছেন। আবার পাহাড়ের রাজনীতিতে মাটি কামড়ে থাকার ইঙ্গিত দিয়ে পিছু হটতে নারাজ বিনয় শিবির। ফলে তারাও নিজের মতো করে মিছিল সভা করে বেড়াচ্ছেন। শক্তি প্রদর্শনের জন্য ২৬ ডিসেম্বর অনিত থাপার মিছিল এবং চকবাজারে সভা ঘিরে নজিরবিহীন যানজট হয় পাহাড়ে। শিলিগুড়ি থেকে যেসব গাড়ি পর্যটক নিয়ে পাহাড়ে উঠেছিল তাদের প্রায় ছ’ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। যেসব পর্যটকরা পাহাড়ের ছিলেন তারাও ইতিউতি ঘোরাফেরা করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েন। ফলে কিছুটা হলেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে পর্যটকদের মধ্যে।
২০১৭ সালের জুন মাসে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু করেন বিমল গুরুং। তারপর টানা ১০৪ দিনের বনধ, সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি, একের পর এক মৃত্যু দেখেছে পাহাড়। পর্যটন কার্যত মুখ থুবরে পড়েছিল তখন। তারপর গুরুংয়ের অন্তর্ধান ও বিনয় তামাংয়ের উত্থান পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করলেও থাবা বসায় করোনা। পাহাড় পর্যটনের মেরুদণ্ড কার্যত ভেঙে পড়ে।
সম্প্রতি আনলক পর্যায়ে একটু একটু করে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সবাই। সাড়া দিচ্ছিলেন পর্যটকরাও। পাহাড়ের হোটেল-রিসোর্ট গুলিতে বুকিং ভালোই হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে বিমল পাহাড়ে ওঠায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি তেতে উঠেছে। বিমল ও বিনয় গোষ্ঠীর নেতারা যেভাবে পরস্পরকে হুমকি দিচ্ছেন তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন অনেকেই। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাওয়া এক পর্যটক রবিন মাইতি বললেন, ‘‘২৬ ডিসেম্বর পাহাড় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ভালো হয়নি। কিছুটা আতঙ্ক নিয়ে ঘুরতে হয়েছে। সুস্থ পর্যটনের জন্য এই পরিবেশ কাম্য নয়।’’
পর্যটন ব্যবসায়ীরা অনেকেই জানাচ্ছেন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সভা-সমিতি আন্দোলন যে কেউ করতেই পারেন। তবে পর্যটনের কথা মাথায় রেখে সকলকেই একটু দায়িত্বশীল হতে হবে। ইস্টার্ন হিমালয়ান ট্র্যাভেল এন্ড ট্যুরস অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেবাশিস মৈত্র বলেন, ‘‘যেভাবে সভা-পাল্টা সভা হচ্ছে তাতে পর্যটকরা আতঙ্কিত বোধ করতেই পারেন। আমরা সর্বতোভাবে তাদের পাশে আছি। কোনও অসুবিধা হবে না।’’