দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: লকডাউনের একঘেয়েমি কাটিয়ে ফের প্রকৃতির কোলে শ্বাস নিতে পারবেন পর্যটকরা। উদ্যোগী হল রাজ্যের পর্যটন দফতর।
করোনা রুখতে লকডাউনে অন্য সমস্ত কিছুর মতোই দীর্ঘ দু’মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রাজ্যের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। আনলক-ওয়ান শুরু হতেই ধাপে ধাপে পর্যটন কেন্দ্রের দরজা খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। আপাতত রাজ্যের পাঁচটি সরকারি পর্যটন আবাস খুলে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ৮ জুন থেকে এগুলির বুকিং শুরু হয়ে যাবে। সেদিন থেকে পর্যটকরাও থাকতে পারবেন।
জঙ্গলের সবুজের মধ্যে ডুয়ার্সের টিলাবাড়ির ‘তিলোত্তমা’ আর লাল মাটির দেশ বীরভূমের ‘রাঙাবিতান’ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। থাকার সুযোগ মিলবে বিষ্ণুপুর, মাইথন ও ডায়মন্ডহারবারের সাগরিকাতেও। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, ‘‘করোনাকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। তাই অন্যান্য সব কিছুর মতোই পর্যটন শিল্পেও দরজা খোলা হচ্ছে। তবে একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে আমরা কেন্দ্রগুলো খুলব। সামাজিক দূরত্ব রক্ষার জন্য এখন যেখানে বেশি জায়গা জুড়ে লজ রয়েছে সেখানেই শুধুমাত্র বুকিং নেওয়া হবে। সেভাবেই বাছাই করা হচ্ছে সরকারি পর্যটন আবাসগুলো।’’
ডুয়ার্স, ঝাড়গ্রাম, সুন্দরবনে বহু সরকারি পর্যটন আবাস রয়েছে। সারা বছরই এই সব পর্যটন আবাসে বুকিং থাকে। মরসুমে একদিনের জন্যেও ঘর ফাঁকা থাকে না। কিন্তু লকডাউন চলাকালীন এই লজগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। দু’মাসের বেশি সময় ধরে সমস্ত পর্যটনকেন্দ্রগুলো শুনশান হয়ে পড়ে রয়েছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও বিপুল। সেই জায়গা থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু হল।
এই নিয়ে আগেও কয়েকবার বৈঠক করা হয়। এবার লজগুলোকে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম দফায় লাটাগুড়ির ‘তিলোত্তমা’, বীরভূমের ‘রাঙাবিতান’, ডায়মন্ড হারবারের ‘সাগরিকা’ এবং বিষ্ণুপুর ও মাইথনে পর্যটন দফতরের যে লজ রয়েছে তার বুকিং নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব ব্যবস্থা করা হবে। পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘‘এতদিন ঘরে থাকার একঘেঁয়েমি কাটাতে চান প্রত্যেকেই। তাই অনেকেই যোগাযোগ করেছেন। তাছাড়া পর্যটনশিল্পের মন্দাও কাটাতে হবে আমাদের। তার জন্যই লজগুলি খোলা হচ্ছে।’’