দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। তাই এবার বেপরোয়া নেতা-নেত্রীদের রাশ টানা শুরু করল তৃণমূল। পূর্ব বর্ধমানের দোর্দন্ডপ্রতাপ শ্রমিক নেতা ইফতিকার আহমেদ ওরফে পাপ্পুকে শো-কজ করল দল। জেলা নেতৃত্বের কাছ থেকে সেই শো-কজ লেটার সংগ্রহও করেছেন বর্ধমান স্টেশনের অঘোষিত ‘ডন’।
বুধবার জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক হয় রাজ্য নেতৃত্বের। সেখানে ইফতিকার আহমেদকে অবিলম্বে শো-কজ করার জন্য বলা হয় জেলা নেতৃত্বকে। সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ পালন করে জেলা নেতৃত্ব। লকডাউন পর্বে বর্ধমান স্টেশনে দুঃস্থদের খাবার বিলি করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা। তাঁদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল পাপ্পু বাহিনীর বিরুদ্ধে। পাপ্পু নিজেও সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ। জেলাশাসক বিজয় ভারতীর কাছে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগ জানানো হয় বর্ধমান থানাতেও। তখনকার মতো বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে গেলেও তা নজর এড়ায়নি রাজ্য নেতৃত্বের। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হতেই এবার ওই নেতার রাশ টানতে তৎপর হল দল।
সংকট মুহূর্তে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি পথে নামায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সুবিধা হয় সরকারেরও। কিন্তু জেলা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি ইফতিকার আহমেদ ওরফে পাপ্পু তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ। বিরোধীদের বক্তব্য, স্টেশনের রাজত্বে যাতে ছেদ না পড়ে তার জন্যই তাঁর এই তৎপরতা। গত পাঁচ ছ'বছরে পাপ্পু বর্ধমান স্টেশনের শেষ কথা হয়ে উঠেছিলেন। দিনে দিনে বেড়েছে তাঁর সাম্রাজ্য ও প্রতিপত্তি। অভিযোগ, তৃণমূল সাংসদ তথা শ্রমিক সংগঠনের সর্বভারতীয় নেত্রী দোলা সেনের ঘনিষ্ঠ হওয়াতেই জেলার ছোট বড় কোনও নেতাকেই পাত্তা দেন না তিনি। এর আগে নানা ব্যাপারে পার পেয়ে গেলেও এবারে পিকের ছাঁকনিতে আটকে গেলেন।
পাপ্পুর পাশাপাশি কেতুগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের আনখোনা পঞ্চায়েত প্রধান আয়েশা খাতুনকেও শো-কজ করার জন্য জেলা নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়েছে দল। রেশন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে আয়েশার বিরুদ্ধে। দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ওই পঞ্চায়েতেরই উপপ্রধান গৌরাঙ্গ ঘোষের বিরুদ্ধেও। তাঁকে শোকজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেতুগ্রাম বিধানসভা এলাকাটি বীরভূম থেকে দেখভাল করা হয়। বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল কেতুগ্রামের দলীয় পর্যবেক্ষক। তাঁকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি অবশ্য জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি স্বপন দেবনাথও বলেন, এটা দলের অন্দরের বিষয়। সুতরাং সংবাদমাধ্যমের কাউকে এ ব্যাপারে কিছু বলা হবে না।