দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: ইডির নাম করে মালদহের এক তৃণমূল নেতা-সহ বেশ কয়েকজনকে প্রতারণার অভিযোগ উঠল দক্ষিণ দমদমের বাসিন্দা এক যুবকের বিরুদ্ধে। থানায় অভিয়োগ দায়ের হলেও এখনও গ্রেফতার করা যায়নি তাঁকে। মালদহের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানান, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
২০১৯ সালের ৫ জুলাই তৃণমূলের মালদহ টাউন যুব সভাপতি শুভ্রদীপ দাসের মোবাইলে একটি মেসেজ আসে। বলা হয়, একাধিক দুর্নীতির মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় ইডি। ভয় পেয়ে গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ওই মোবাইল নম্বরে ফোন করেন তিনি। তাঁকে ওই ব্যক্তি সল্টলেকের ইডির দফতরের বাইরে দেখা করতে বলেন। সেই ব্যক্তির কথা মতো কলকাতায় এসে ইডির দফতরের বাইরে দেখা করতে বলেন।
শুভ্রদীপ জানান, সল্টলেকে ইডির অফিসের বাইরে তাঁর সঙ্গে দেখা করে ওই ব্যক্তি জানান বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার করা হবে তাঁকে। যদি বাঁচতে চান তবে দিতে হবে আড়াই লক্ষ টাকা। তখন অত টাকা না থাকায় মালদহে ফিরে যান তিনি। তারপর ফিরে এসে ওই ব্যক্তির হাতে দু লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা তুলে দেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রায় ছ’মাস পরে জানতে পারি ইডির নাম করে ভয় দেখিয়ে একই কায়দায় মালদহ শহরের আরও বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে ওই ব্যক্তি। জানতে পারি দমদমের বাসিন্দা ওই যুবকের শ্বশুরবাড়ি মালদহে। মালদহ শহরের সবার সম্পর্কে তাঁকে তথ্য দিত তার স্ত্রী। এরপরেই আমরা পুলিশে অভিযোগ জানানোর কথা ভাবি। কিন্তু ওই ব্যক্তি ফোনে আমাকে বলে, আমার টাকা সে ফিরিয়ে দেবে, পুলিশে যেন অভিযোগ না জানাই।’’
এর কয়েক দিন পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ব্যক্তি ফের তাঁর নামে অপপ্রচার শুরু করে বলে শুভ্রদীপের অভিযোগ। এরপরেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এই তৃণমূল নেতা। জেলার আরেক তৃণমূল নেতা নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি বলেন, ‘‘শুধু আমাদের দলের নেতাই নয়, সাধারণ মানুষকেও ইডির নামে ভয় দেখিয়ে টাকা তুলেছে ওই ব্যক্তি। পুলিশ অবিলম্বে এই প্রতারককে গ্রেফতার করুক এটাই আমাদের দাবি।’’ জেলার বিজেপি নেতা গোবিন্দচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নামে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে অভিযুক্ত। এখনই ওকে গ্রেফতার করা উচিত।’’
জেলার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, ‘‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।’’