দ্য ওয়াল ব্যুরো, দার্জিলিং: নির্বাচনের মুখে বিমল-বিনয় তরজায় তেতে উঠেছে পাহাড়। শান্তি রাখতে তাই মোর্চার যুযুধান দুই শিবিরকে হাত মেলাতে চাপ বাড়াচ্ছে তৃণমূল। কিন্তু কাউকেই এখনও নিজেদের অবস্থান থেকে টলানো যায়নি।
বিমল গুরুংয়ের আবির্ভাবের পর থেকেই পাহাড়ে কোণঠাসা বিনয় তামাং শিবির। প্রথমে শিলিগুড়ির জনসভা থেকে পড়ে দার্জিলিং চকবাজারে গত রবিবারের জনসভা থেকে বিনয় তামাং গোষ্ঠীকে পাহাড় ছাড়া করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিমল গুরুং। এই পরিস্থিতিতে কোনওভাবেই পাহাড়ে ফের সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সংঘাত শুরু হলে তা কখনই রাজ্যের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে না। তাই আসরে নেমে পড়েছে শাসকদল। কলকাতায় ডেকে বিনয় তামাং অনিত থাপাদের একবার বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে হাত মেলানোর জন্য বলেছে টিম পিকের প্রতিনিধিরা। যদিও বিমলের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব পত্রপাঠ নাকচ করে দিয়েছেন বিনয় তামাং। অন্যদিকে বিমল শিবিরকেও বলা হচ্ছে বিনয় তামাংকে সঙ্গে নিয়ে চলতে। এই পরিস্থিতিতে দুপক্ষই নিজের নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছে। রাজ্য সরকার চাইছে নির্বাচনের আগেই দু'পক্ষ একটা সমঝোতায় আসুক যাতে রাজনৈতিকভাবে সুবিধে হয় তৃণমূলের।
বিমল গুরুং শুধু পাহাড়ের তিনটি আসনই নয় ডুয়ার্সের অন্তত ১৫ টি আসন তৃণমূলকে পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু বিনয়দের সঙ্গে সমঝোতা না হলে সেই সম্ভাবনায় যে কাঁটা আছে তা বিলক্ষণ বুঝতে পারছে শাসকদল। তাই কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না তারা। বিনয়-বিমল দুই শিবিরকে তুষ্ট রেখে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়াই এখন শাসকদলের কাছে চ্যালেঞ্জ। যদিও এখনও পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা দুর অস্ত।
বিমল গোষ্ঠীর নেতা রোশন গিরি জানিয়েছেন, পাহাড়ে যেই থাকুন না কেন বিমলের নেতৃত্বকেই মেনে নিতে হবে। আর এখানেই তীব্র আপত্তি বিনয় তামাং শিবিরের। যদিও সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাননি বিনয় গোষ্ঠীর নেতা অনিত থাপা। অন্যদিকে সিপিআরএম- জিএনএলএফ- এবিজিএল সহ পাহাড়ের ছোট রাজনৈতিক দলগুলো বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ নিবিড় করছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দলের প্রতিনিধিরা কেন্দ্রে গিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছেন। সেখানে পাহাড় সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান, ১১ জনজাতির তপশিলি উপজাতি স্বীকৃতি সহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়েছে। ছোট দলগুলো নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ না করলেও মনে করা হচ্ছে আগামী নির্বাচনে তারা বিজেপি শিবিরের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
পাশাপাশি কেন্দ্র এই মুহূর্তে পাহাড় নিয়ে কী পদক্ষেপ করে সে দিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির। ইতিমধ্যে রোশন গিরি এক সাক্ষাৎকারে পাহাড়ের জন্য পৃথক রাজ্য না হলেও ইউনিয়ন টেরিটোরি বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কথা বলেছেন। রোশন বলেন, ‘‘আলাদা রাজ্য না হোক বিজেপি এতদিনে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অন্তত দিতে পারত। তা না করে তারা পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করেছে। পাহাড়ের মানুষ তাদের শিক্ষা দেবে।’’
পাহাড়ের জটিল সমীকরণে রোশনের হুঁশিয়ারি আদতেই কতটা ফলপ্রসু হবে তার জবাব পাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।