দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষ বাধে নরেন্দ্রপুর থানার খেয়াদাহ গ্রামপঞ্চায়েতের গোপালনগর গ্রামেও।
অভিযোগ, গ্রামের বিজেপির বুথ সভাপতি প্রদীপ বালা সকালে নিজের বাড়ির সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময় এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা তাঁকে পতাকা তুলতে নিষেধ করে। এবং পতাকা তুলতে হলে তাঁদের সঙ্গেই তুলতে হবে বলে জোর করে। এই নিয়ে বচসার সূত্রপাত। অভিযোগ তাঁদের কথা না শোনায় ওই বিজেপি নেতাকে শাবল, রড দিয়ে মেরে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে কলকাতায় রেফার করে দেওয়া হয়।
আহত বিজেপি নেতা প্রদীপ বালা বলেন, ‘‘আমরা পতাকা তুলতে গেলে বাধা দিয়েছিল তৃণমূলের লোকজন। ওরা বলেছিল পতাকা তুলতে হলে ওদের সঙ্গেই তুলতে হবে। আমি রাজি না হওয়ায় রড-শাবল নিয়ে এসে আমার উপর চড়াও হয় ওরা। মারধর শুরু করে। আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমার বাড়ির লোকদেরও মারধর করা হয়।’’
ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। সোনারপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রবীর সরকার বলেন, ‘‘আজ স্বাধীনতা দিবসের দিন সব জায়গাতেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন হচ্ছে। কোথাও রাজনৈতিক দল, কোথাও কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, কোথাও আবার ব্যক্তিগত উদ্যোগেই পতাকা উত্তোলন হয়। এই পতাকা তোলা নিয়েই মারামারি হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। মিথ্যে এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলকে জড়ানো হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই।’’
পতাকা তোলাকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে ওঠে হুগলির খানাকুলও। খুন হন এক বিজেপি কর্মী। নিহতের নাম সুদর্শন প্রামাণিক (৪০)। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের লোকজনই পিটিয়ে মেরেছে তাঁদের কর্মীকে। অন্যদিকে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। খানাকুলের নবতিপুরে স্বাধীনতা দিবসের সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি ছিল বিজেপির। পাশাপাশি এলাকাতেই পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি ছিল তৃণমূলেরও। সেই সময়েই দুই দলের কর্মীদের মধ্যে বচসা বাঁধে। তা থেকেই খুনের ঘটনা ঘটে যায়।