দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: ব্লক সভাপতি পরিবর্তন করার দাবি তুলে তৃণমূল কর্মীদের একাংশের বিক্ষোভে উত্তাল হল চন্দ্রকোণা। হেনস্থার অভিযোগ উঠল পিকের টিমের ছেলেদের।
মঙ্গলবারই তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি সাংবাদিক সম্মেলন করে চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেন জগজিৎ সরকারকে। আর তারপরেই প্রকাশ্যে আসে দলের বিক্ষোভ। আর তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ার একদিন পরেই আজ বুধবার বিকেলে জগজিৎবাবুকে সরানোর জন্য বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল নেতা কর্মীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, দলের সিংহভাগ কর্মী ও নেতা রামকৃষ্ণ রায়কেই চন্দ্রকোণা-২ ব্লক সভাপতি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জগজিৎবাবু ব্যক্তিগত লবি করে ওই পদ কেড়ে নিয়েছেন। তাই এটা তাঁরা কোনও ভাবেই মেনে নেবেন না।
যদিও জগজিৎবাবু বলেন, ‘‘আমি দলের অত্যন্ত সাধারণ একজন কর্মী। আমি সভাপতি পদের জন্য কখনই লালায়িত ছিলাম না। এখনও নেই। দল দায়িত্ব দিয়েছে। দল যদি আজকেই সরিয়ে দেয় তাতেও আমার কোনও আক্ষেপ থাকবে না। আমি দলের কর্মী হিসেবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করে আসছি এবং কাজ করে যাব।’’
চন্দ্রকোণা শহরের ব্লক পার্টি অফিসের সামনে ওই বিক্ষোভ চলাকালীন পিকের টিমের বেশ কয়েকজনকে হেনস্থা করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। তাঁদের ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, ‘‘পিকের টিমের ছেলেদের এভাবে হেনস্থা ঠিক কাজ হয়নি। ব্লক সভাপতি কে হবেন, তা রাজ্য নেতৃত্ব ঠিক করেন। এ ব্যাপারে জেলা নেতৃত্বের কিছু বলার নেই। দল যা বলবে তা সবাইকেই মাথা পেতে নিতে হবে।’’
দীর্ঘদিন ওই ব্লকের তৃণমূল সভাপতির পদ সামলেছেন ছাত্রাবস্থা থেকে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সিপিএমের হাতে বহুবার আক্রান্ত নেতা অমিতাভ কুশারী (বাপি)। কয়েক মাস আগে তাঁকে সরিয়ে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একদা সিপিএম নেত্রী তথা ২০১১-২০১৬ টার্মের সিপিএম বিধায়ক, পরে যিনি তৃণমূলে যোগ দেন সেই ছায়া দলুইকে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছে জগজিৎবাবুকে। আর তা নিয়েই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে দলে।