দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: পুরনো নেতৃত্বেই আস্থা। তাঁর নেতৃত্বেই সংগঠন করতে চান পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সেখ সালেখ রহমান। তাই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য দলের সুপ্রিমোর কাছে আবেদন জানালেন তিনি।
২০০৮ সাল থেকে বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল আউশগ্রাম, মঙ্গলকোট ও কেতুগ্রাম বিধানসভার পর্যবেক্ষকের দায়িত্বভার সামলে এসেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই এখানে চলেছে দল। দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টই ছিলেন এলাকার শেষ কথা। সেই দায়িত্ব এবার দেওয়া হয়েছে বিধায়ক সুভাষ মণ্ডলকে। আর তাতেই আপত্তি এলাকার কয়েকজন তৃণমূল নেতার।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক রদবদল হয়েছে বৃহস্পতিবার। রাজ্য ও জেলাস্তরে আনা হয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন। গোটা রাজ্যেই তুলে দেওয়া হয়েছে পর্যবেক্ষক পদ। বেশ কয়েকটি জেলার দলের সভাপতিও পরিবর্তন করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানে অবশ্য জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বর্ষীয়ান স্বপন দেবনাথের উপরই ভরসা রেখেছে দল। তবে সভাপতির অধীনে তিনজনের একটি সমন্বয় কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এই সমন্বয় কমিটিতে রয়েছেন বিধায়ক সুভাষ মণ্ডল, উজ্জ্বল প্রামাণিক ও বিধায়ক অলোক মাঝি। আউশগ্রাম, ভাতার, মঙ্গলকোট, কেতুগ্রাম, মন্তেস্বর ও মেমারি বিধানসভার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিধায়ক সুভাষ মণ্ডলকে।
শুক্রবার তারই প্রতিবাদে সরব হলেন ব্লক সভাপতি সেখ সালেক রহমান ও গুসকরা শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি কুশল মুখার্জি। সামাজিক দূরত্ব শিকেয় তুলে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে দলের কার্যালয়ে বৈঠক করলেন সেখ সালেক রহমান। উপস্থিত অনেকের মুখে মাস্ক পর্যন্ত ছিল না। তবে অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ আউশগ্রামের বিধায়ক অভেদানন্দ থাণ্ডারকে এই মিটিংয়ে দেখা যায়নি। এখানে ব্লক ও শহর দুই সভাপতিই জানালেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে অনুব্রত মণ্ডলকে দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানাবেন তাঁরা।
মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এই বিষয়ে সুভাষ মণ্ডলের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজ্য সমন্বয় কমিটির সদস্য তথা জেলা পরিষদের সহসভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, ‘‘দলের নির্দেশ মেনেই আমরা চলতে বাধ্য। কেউ দাবি করতেই পারেন। দলই সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।’’
গত ১২ বছর এই অঞ্চলে তৃণমূলের নেতৃত্ব দিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। তৃণমূল কংগ্রেস ২০১১ সালে আউশগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হলেও পরবর্তীতে কী বিধানসভা কী লোকসভা বা পুর নির্বাচন, সবেতেই জয়ী হয়েছে। এটা যেমন সত্যি, তেমনি গত পাঁচ বছরে গোষ্ঠীসংঘর্ষে শুধুমাত্র আউশগ্রামেই তিনজন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কর্মী খুন হয়েছে। সব নিয়ে ক্ষমতায় থাকলেও শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দল বা গোষ্ঠী সংঘর্ষ থামেনি। বরং বেড়েছে।
এদিনের বৈঠকে গুসকরা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর মল্লিকা চোঙদার, নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় সহ কার্যত কোনও কাউন্সিলর এবং পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান বুর্দ্ধেন্দু রায়কে দেখা যায়নি।