দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ির পাতকাটা কলোনির ঘোষপাড়ার বাসিন্দা তিনি। আশেপাশে যাঁদের বাস তাঁদের অধিকাংশই দিন আনি দিন খাই অবস্থা। লকডাউনের জেরে কাজ বন্ধ, তাই আয়ও। প্রতিদিনের অন্নের সংস্থান করতে হিমশিম অবস্থা। এঁদের পাশে দাঁড়ালেন স্বপ্না বর্মন।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চা বাগান ও লাগোয়া এলাকার প্রায় ৫০০ পরিবারের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিলেন জলপাইগুড়ির সোনার মেয়ে। এশিয়াডে সোনা জয়ী স্বপ্না বললেন, ‘‘একসময় একমুঠো ভাতের জন্য আমরাও হা পিত্তেশ করে বসে থাকতাম। কারণ বাবা রিক্সা চালাতেন। সারাদিন রিক্সা চালানোর পর উপার্জন করে রাতে চাল নিয়ে বাড়ি ফিরলে তবেই ভাত রান্না হত। তাই খিদের জ্বালা কী তা আমি খুব জানি।’’
লকডাউনের জেরে আশেপাশের মানুষগুলি ঠিক কতটা সমস্যায় পড়েছেন তা বুঝতে পেরেই বাজার থেকে চাল-ডাল-আটা-চিনি আনার ব্যবস্থা করেন তিনি। তারপর বাড়ির লোকেদের নিয়ে তা প্যাকেট করে তুলে দেন অভাবী মানুষদের হাতে।
করোনা রুখতে দেশজুড়ে লকডাউন জারি হওয়ার পর থেকেই গৃহবন্দি স্বপ্না। জানালেন, একেবারে বাড়িতেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। খেলছেন বাড়ির বাচ্চাদের সঙ্গে। তারইমধ্যে বাড়িতে থেকে যতটা সম্ভব ব্যায়াম ইত্যাদি করা যায় তা করছেন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য চলছে ডায়েটিংও।
সামনের বছর অলিম্পিক গেমস। এখনও প্রস্তুতি শুরু করতে পারেননি তেমনভাবে। তা নিয়ে অবশ্য বিশেষ উদ্বিগ্ন নন স্বপ্না। বললেন, ‘‘লকডাউনের জেরে প্র্যাকটিস কম হচ্ছে এটা ঠিক। তবে এর খুব একটা প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। কারণ এই সময় বিশ্বের অন্যান্য দেশের অ্যাথলিটরাও তো নিজেদের গৃহবন্দি রেখেছেন। তাই প্র্যাকটিস শুরু হবে মোটামুটি একই সময়ে।’’
এখন মারণ ভাইরাস করোনার বিস্তার রুখে দেওয়াটাই সবথেকে বড় কাজ বলে মনে করেন তিনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে লকডাউন ভাঙার ছবি দেখে উদ্বিগ্ন স্বপ্লা। বললেন, ‘‘অহেতুক বাড়ির বাইরে গিয়ে নিজের পাশাপাশি অন্যের বিপদ ডেকে আনছেন কিছু মানুষ। কয়েকটা দিন গৃহবন্দি থাকলে যদি এই বিপদ কেটে যায়, তবে কেন সেটা করব না আমরা?’’