দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: তখনও রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েননি পুরোপুরি। সিউড়ির বিদ্যাসাগর কলেজে পড়াশোনা শেষ করে স্কুল শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন গ্রামীণ হাওড়ার তাজপুর এম এন রায় ইনস্টিটিউশনে। পরবর্তীতে তাঁর মেধা তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল জাতীয় রাজনীতির শীর্ষে। দেশের রাষ্ট্রপতিও হয়েছেন। কিন্তু এখনও মাস্টারমশাই হিসেবেই প্রণববাবুকে মনে রেখেছেন তাঁর ছাত্ররা। সোমবার প্রণববাবু প্রয়াত হয়েছেন খবর আসতেই তাই শোকের ছায়া এই প্রান্তিক গ্রামে।
১৯৫৭ সালের ফেব্রয়ারি মাসের শেষের দিকে প্রণববাবু যোগ দিয়েছিলেন আমতা দু’নম্বর ব্লকের তাজপুর এম এন রায় ইনস্টিটিউশনে। হাওড়া থেকে মার্টিন রেলে চেপে আড়াই ঘণ্টা জার্নি করে আমতায় পৌঁছতেন প্রতিদিন। পরের দিকে দীর্ঘ সময় যাতায়াতে নষ্ট হচ্ছে দেখে আমতাতেই বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন। তাজপুর গ্রামে যাঁদের বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন, সেই চক্রবর্তী পরিবারের দুই ছেলে চিত্তরঞ্জন চক্রবর্তী ও নয়নরঞ্জন চক্রবর্তী তখন কিশোর। তাঁদের স্মৃতিতে প্রণববাবু বরাবরই স্কুলের খুব কাছের একজন মাস্টারমশাই। ক্লাসের ফাঁকে যাঁকে অনেক কথা বলা যায়।
প্রণববাবুর সেইসব ছাত্ররা এখন প্রৌঢ় হয়েছেন প্রায়। তবুও স্মৃতির পলি সরিয়ে প্রণববাবুর বাংলা ক্লাস এখনও উঁকি দিয়ে যায় তাঁদের অনেকের মনেই। এই রাসভারী রাজনীতিকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অন্য মনটাকে যে আগেই চিনে নিয়েছিলেন তাঁর ছাত্ররা। বেশ কিছুদিন ধরেই প্রণব মুখোপাধ্যায় অসুস্থ। শুনছেন সে কথা। চিন্তিত হয়েছেন আরও অনেকের মতো। কিন্তু সোমবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু খবর আসতেই শোকের ছায়া নামে গোটা এলাকায়। স্কুলের প্রাক্তনীদের মতোই শোকস্তব্ধ তাজপুর এম এন রায় ইনস্টিটিউশনের বর্তমান ছাত্রছাত্রী থেকে শিক্ষক শিক্ষিকা সকলেই। হয়তো তাঁরা কখনও খুব কাছাকাছি আসেননি। তবুও এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জীবনের একটা অংশ যে জড়িয়ে এই স্কুলের সঙ্গে। সেই আবেগটা কোথায় লুকোবেন!
জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পরিক্রমা ও রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরেও নিজের একদা কর্মভূমিকে ভোলেননি প্রণববাবুও। আর সেই কারণে ১৯৯৫ সালে বিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এবং ২০১৭ সালে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা গণিতজ্ঞ মানবেন্দ্র রায়ের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। সেখানে কেমন করে এই স্কুলে কেটে গিয়েছিল তাঁর ছ’মাসের চাকরি জীবন স্মৃতিচারণা করেছিলেন। সব মনে আছে ছোট্ট তাজপুর গ্রামের। গোটা গ্রাম বরাবরই তাঁদের স্কুলের এই শিক্ষককে নিয়ে গর্বিত। আজ সেই গর্বের সঙ্গেই মিশে গেল তাঁকে হারানোর হাহাকার।