দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: দালালরাজ রুখতে এবার অভিনব পদক্ষেপ করল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। রোগী বা রোগীর পরিজনদের মধ্যে বিভ্রান্তি কাটাতে ভর্তির সময়েই রোগীর পরিজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বিশেষ নির্দেশিকা কার্ড। এই কার্ড নিয়ে রোগীর পরিজন কারও সাহায্য ছাড়াই পৌঁছে যেতে পারবেন নির্দিষ্ট ওয়ার্ড বা এক্স রে, সিটি স্ক্যান সেন্টারে।
বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালরাজ সক্রিয় বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। একাধিকবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দালালরাজ রুখতে ব্যবস্থা নিলেও ভাঙা যায়নি চক্র।
রোগীর পরিজনদের ভুল বুঝিয়ে বাইরে থেকে রক্ত সহ অন্যান্য পরীক্ষা করিয়ে আনা বা ভুল বুঝিয়ে নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার মত ঘটনা আকছার ঘটে বর্ধমান হাসপাতালে। হাসপাতালের কিছু কর্মীও এই ঘটনায় যুক্ত থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে অতীতে। এবার এ সব বন্ধ করতে রীতিমত কোমর বেঁধে আসরে নেমেছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
তাঁরা জানান, ধরা যাক জরুরি বিভাগে আসার পর কোনও রোগীকে রাধারানি ওয়ার্ডে বা সিটি স্ক্যান করতে যাওয়ার কথা বলা হল। বাইরে থেকে আসা রোগীর পরিজনরা সেই জায়গা চিনতে না পারার কারণে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চান। আর সেখানেই ঘাপটি মেরে বসে থাকে দালাল চক্রের লোকজন। সাহায্য করার নাম করে তাদের ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বাইরে প্যাথলজি ল্যাব বা অন্য কোনও নার্সিংহোমে। কখনও আবার সঠিক জায়গা খুঁজে পেতে হয়রানির শিকার হতে হয় তাঁদের ৷ এই সমস্যা কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ নিল বর্ধমান হাসপাতাল।
বুধবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুপারের ঘরে বৈঠকে বসেন হাসপাতালে আধিকারিকরা। সেই বৈঠকেই ঠিক হয়, হাসপাতালে রোগীদের জন্য এবার তৈরি করা হবে নতুন এক ধরনের কার্ড। কোন দিকে রাধারানি ওয়ার্ড, কোন দিকে নিউ বিল্ডিং, কোথায় হবে সিটিস্ক্যান বা ডিজিটাল এক্স রে, ব্লাড ব্যাঙ্কই বা কোন দিকে? এই সমস্ত বিষয়ে লেখা থাকবে ওই কার্ডে। যে রোগীকে যেখানে পাঠানো হবে সেখানকার কার্ড দিয়ে দেওয়া হবে রোগীর পরিজনের হাতে। এই বিষয়টির পরিচালনা করার জন্য দায়িত্বশীল কিছু লোককে দায়িত্ব দেওয়া হবেও বলেও জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তাদের অনুমান, এই ব্যবস্থা চালু হলে একদিকে যেমন দালালচক্র ভাঙা যাবে একইভাবে কিছুটা হলেও হয়রানি কমবে রোগী ও তাদের পরিজনদের।
এই বিষয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। জরুরি বিভাগ থেকে রোগীদের ট্রলি ছাড়া অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করা যাবে না, এই বিষয় নিয়েও জারি হবে নির্দেশিকা।