রফিকুল জামাদার: হাসপাতালে ভাঙচুর ও ডাক্তারদের উপর আক্রমণ রুখতে এবার পোর্টাল চালু করল রাজ্য। নাম দেওয়া হল ‘ডক্টরস গ্রিভেন্স পোর্টাল’।
ডাক্তারদের উপর আক্রমণের পরপর ঘটনায় উদ্বিগ্ন রাজ্য সরকার। কড়া হাতেই এর মোকাবিলা করতে এবার উদ্যোগী হল রাজ্য। তারজন্যই তৈরি করা হল এই পোর্টাল। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের উদ্যোগেই তৈরি হয়েছে এই পোর্টালটি। সূত্রের খবর, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে কোনও রকম কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে ছবিসহ সেই তথ্য যাতে সঙ্গে সঙ্গে সরাসরি রাজ্য সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় তার জন্যই এই পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে।
তবে মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমস্যা হলেই এই পোর্টালের মাধ্যমে তথ্য দিয়ে গোটা বিষয়টি রাজ্য সরকারের গোচরে আনা যাবে। কীভাবে অভিযোগ জানানো যাবে তার নির্দিষ্ট তালিকাও করে দেওয়া হয়েছে এই ডক্টরস গ্রিভেন্স পোর্টালে। হাসপাতালের নাম, ঠিকানা, কোন জেলায় হাসপাতাল অথবা নার্সিংহোমটি অবস্থিত এবং স্থানীয় থানার নাম কী, কী ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা তৈরি হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য ছবি-সহ এই পোর্টালে আপলোড করা যাবে।
যে চিকিৎসক এই ছবি বা তথ্য আপলোড করবেন তিনি তাঁর নাম, ফোন নম্বর, ই-মেল আইডি এবং কোন হাসপাতাল বা নার্সিংহোমের সঙ্গে তিনি জড়িত সেই তথ্য এখানে দিয়ে দিতে পারবেন।
মঙ্গলবার বিকেলে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে রোগীর পরিবারের রোষের মুখে পড়েন এনআরএসের জুনিয়র ডাক্তাররা। শুধু চিকিৎসকই নয়, হাসপাতালের নার্স-সহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসা কর্মীকেও মারধর করার অভিযোগ ওঠে রোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, এনআরএস হাসপাতালে ৬০ বছরের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। অভিযোগ ওঠে, চিকিৎসকেরা ইনজেকশন দেওয়ার কিছু পরেই মৃত্যু হয় বৃদ্ধের। গাফিলতির অভিযোগে কর্তব্যরত জুনিয়র ডাক্তারকে হেনস্থা করা হয় বলে জানা গেছে। এমনকি মারা হয় কিল-চড়-ঘুষিও। নার্স ও চিকিৎসাকর্মীরাও হেনস্থার শিকার হন।
পুলিশ এসে গ্রেফতার করে চার অভিযুক্তকে। বছরখানেক আগে এই হাসপাতালেই চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগে জুনিয়র ডাক্তারদের বেধড়ক মারধরের ঘটনায় আন্দোলন ঘটে রাজ্যজুড়ে। নজিরবিহীন বিক্ষোভে থমকে যায় পরিষেবা। সে সময়ে চিকিৎসক নিগ্রহ আইন সংশোধন করে রাজ্য সরকার। কিন্তু তার পরেও যে শিক্ষা হয়নি, মঙ্গলবারের ঘটনাই তার প্রমাণ।