দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: জিটিএ নিয়ে দিল্লিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক কার্যত ব্যর্থ হল। দু’দিন আগেই গোর্খাল্যান্ড নিয়ে বৈঠকের জন্য রাজ্য সরকার, জিটিএর প্রধান সচিব দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল গোষ্ঠীকে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। চিঠিতে জানানো হয় নর্থ ব্লকে জি কিষেন রেড্ডির সভাপতিত্বে বৈঠক হবে। যদিও এই নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া হওয়ায় তড়িঘড়ি বৈঠকের এজেন্ডা বদলে দিয়ে জিটিএ সম্পর্কিত আলোচনা বলে সংশোধন পাঠানো হয়। তারপরেও অবশ্য এদিন রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি বৈঠকে যোগ দেননি।
গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার তরফে একমাত্র প্রতিনিধি লোপসাং লামা বৈঠকে উপস্থিত হয়ে জিটিএ খারিজ করে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আলোচনা শুরু করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পাহাড়ের ১১ জনজাতির উপজাতি স্বীকৃতির দাবিও জানানো হয়েছে আলোচনায়। এই বৈঠক নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি ও বিমলপন্থী মোর্চার জোটসঙ্গী জিএনএলএফ।এদিন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের পর দলের সাধারণ সম্পাদক মহেন্দ্র ছেত্রী বলেন, ‘‘এই বৈঠকের প্রহসন যেন কেন্দ্র আর না করে। এটা পাহাড়ের মানুষকে অপমান। অবিলম্বে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত করা হোক।’’
দার্জিলিংয়ে পৃথক রাজ্যের আন্দোলনকে কেন্দ্রের তরফে উসকানি দেওয়া হয় বলে বরাবরই অভিযোগ তুলেছে বাম ও তৃণমূল। ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই ইস্যুতেই পাহাড়বাসীর ভোটের সিংহভাগ নিজেদের ঝুলিতে টানতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। সামনেই ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট। তাঁর আগে ফের সেই একই তাস খেলতে চলেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। অভিযোগ উঠেছিল এমনটাই। সেই আবহেই এদিনের বৈঠক। তা ফলপ্রসু না হওয়াটাই কাঙ্খিত ছিল বলেই মনে করছে পাহাড়ের রাজনৈতিক মহল। জিটিএ প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারম্যান অনীত থাপা বলেন, ‘‘যে জিটিএ খারিজের দাবি জানাচ্ছেন বিমল পন্থীরা তারাই গোর্খাল্যান্ডের বৈঠকে যোগ দিচ্ছে এটা অর্থহীন।’’