দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি জেলার সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে শুরু হয়েছে সোয়াব টেস্ট বা লালারস সংগ্রহের কাজ। আর সামাজিক দূরত্ব শিকেয় তুলেই সর্বত্র সোয়ার টেস্টের জন্য দীর্ঘতর হচ্ছে লাইন।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী জেলার প্রত্যেকটা ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই রুটিনমাফিক লালারস সংগ্রহ করা হচ্ছে করোনা পরীক্ষার জন্য। ভাতার ব্লক এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে পুরুষ মহিলা ও শিশু মিলে বহু মানুষ প্রতিদিন তাদের লালারসের নমুনা দিতে ভিড় করছেন হাসপাতালে। ভোর থেকেই লাইন পড়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। গড়ে ১০০ জন ব্যক্তির লালারস পরীক্ষা করা হচ্ছে ভাতার গ্রামীণ হাসপাতালে। প্রতিদিন ভাতার ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শ'য়ে শ'য়ে মানুষ জড়ো হচ্ছেন লালারস পরীক্ষার জন্য। সেখানে সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা, কোনও সরকারি নির্দেশিকাই পালন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
অনেকেই মুখে মাস্ক ছাড়া হাজির হচ্ছেন হাসপাতাল চত্বরে। রীতিমতো গা ঘেঁষে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, ‘‘ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। যত বেলা বাড়ছে ততই ভিড়ও বাড়ছে। কোনও দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে না। সবাই গায়ে গা দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছে লাইনে।’’
ভাতারের শিলাকোট গ্রামের বাসিন্দা মণি মাল বলেন, ‘‘ভোর থেকে লাইনে ছিলাম। দুপুরে লালারস সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন ভয় হচ্ছে। মনে হচ্ছে বাড়ি ফিরব করোনা নিয়ে। কারণ শ'দুয়েক লোক সকাল থেকে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কোনও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না।’’
হাসপাতাল চত্বরে যাঁদের বাড়ি, তাঁরা বলছেন ‘‘টেস্টের নামে এলাকায় করোনার দাপট আরও বাড়বে। ব্লকের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন আসছেন। কিন্তু কোনও সচেতনতার বালাই নেই। কতৃর্পক্ষেরও কোনও নজর নেই। আমরা খুবই আতঙ্কে আছি।’’
এই বিষয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রণবকুমার রায় বলেন, ‘‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এমন অভিযোগ যখন উঠেছে নিশ্চই খোঁজ নিয়ে দেখব।’’