দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ২০ জুন গরুমারা জাতীয় উদ্যান সুরক্ষার কাজে যোগ দিয়েছিল অরল্যান্ডো। মাত্র দু’মাসের মাথায় নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে বন দফতরের কর্তাদের মন জয় করে নিল অরল্যান্ডো।
বন দফতরের আধিকারিকরা জানান, ধূপঝোড়া বিটে বাইসন শিকার করে সেই মাংস দিয়ে হাড়িয়া খাওয়ার আসর বসিয়েছিল স্থানীয় একদল মানুষ। গোপন খবরের ভিত্তিতে বন দফতর অভিযোন চালালে অরল্যান্ডোই খুঁজে বের করে সেই বাইসনের মাংস। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয় একজনকে। বাকিদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।
মূর্তি আর রায়ডাক নদীর ধার বরাবর ৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে গরুমারা জাতীয় উদ্যান। এখানে রয়েছে ৫০ টির বেশি একশৃঙ্গ গন্ডার, হাতি, বাইসন-সহ আরও নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। বন্যপ্রাণীদের দেহাংশের লোভে বারবার জঙ্গলে হানা দেয় চোরাশিকারীরা। কখনও শৃঙ্গের লোভে খুন করে গন্ডার। কখনও দাঁতের লোভে তাদের নিশানা হয় হাতি। এতদিন বনকর্মীদের সঙ্গে বন পাহারার দায়িত্ব ছিল হাতিদের উপর। বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষা দিতে জুন মাসে আনা হয় স্নিফার ডগ অরল্যান্ডোকে। ট্রেনিংয়ের সময়েই প্রাণী দেহাংশ খোঁজার ব্যাপারে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল অরল্যান্ডোকে। বৃহস্পতিবার কার্যক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করল অরল্যান্ডো। বেলজিয়ান ম্যালনয় প্রজাতির ১৭ মাস বয়সী কুকুর অরল্যান্ডো। এটাই তার প্রথম বড় সাফল্য বলে জানা গেছে।
গরুমারা জাতীয় উদ্যানের ধূপঝোড়া বিট এলাকার এক বনবস্তির কিছু বাসিন্দা একটি বাইসন শিকার করে। এরপর সেই বাইসনটির শরীরের বিভিন্ন নরম অংশ থেকে মাংস কেটে সেই মাংস রান্না করে বুধবার রাতে একটি বাড়িতে বসিয়েছিল হাড়িয়া খাবার আসর। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার গরুমারা ওয়াইল্ড লাইফ ডিভিশনের এডিএফও জন্মেজয় পাল এবং ওই রেঞ্জের রেঞ্জার অয়ন চক্রবর্তী বনকর্মীদের নিয়ে টিলাবাড়িতে অভিযান করেন। তখনই নিয়ে যাওয়া হয় অরল্যান্ডোকে।
জন্মেজয়বাবু বলেন, ‘‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা টিলাবাড়ি যাই। সেখানে গন্ধ শুঁকে সোমরা ওড়াও (৪০)নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে রান্না করা বাইসনের মাংসের হদিস করে অরল্যান্ডো। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বাইসন শিকারের কথা স্বীকার করে। যে আটজন মিলে হাড়িয়ার আসরে বসিয়েছিল তাদের মধ্যে ৩ জনের নামও জানায়। তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাইসনের শিং ও মাংস উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু এখনও ধরা যায়নি তাদের।’’
তিনি জানান, এর আগে জাতীয় উদ্যানে গন্ডার শিকার হয়েছে শৃঙ্গের লোভে। মাংস ও চামড়া বিক্রির লোভে শিকার হয়েছে চিতাবাঘ। কিন্তু এই প্রথম গরুমারা জাতীয় উদ্যানে বাইসন শিকার করে মাংস খাবার অভিযোগ উঠল।