দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: করোনা আতঙ্কে বিদেশি পর্যটকদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল সিকিম সরকার। বৃহস্পতিবার এই ব্যাপারে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ওই রাজ্য। তাতে বলা হয়, দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। পর্যটন এলাকা হিসেবে সিকিমেও এই ভাইরাস ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই এর বিস্তার ঠেকাতে সিকিম ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনও বিদেশি নাগরিক এখন থেকে সিকিম ভ্রমণ করতে পারবেন না।
সিকিমের স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের পর্যটন ও অসামরিক বিমান পরিবহণ দফতরকে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে তাতে চিন্তিত সিকিম প্রশাসন। সেই কারণে ৫ মার্চ থেকে বিদেশি পর্যটকদের এ রাজ্যে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। এমনকী ভুটানের বাসিন্দারাও সিকিমে ঢুকতে পারবেন না। নাথুলা যাওয়ার জন্য পারমিটও দেওয়া হবে না। এর জন্য পর্যটন ও অসামরিক বিমান পরিবহন দফতরকে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটরদেরও বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাঁরা বেড়াতে ভালবাসেন, তাঁদের কাছে সিকিমের আকর্ষণ বরাবরের। হিমালয়ের কোলে এই রাজ্যের কিছু কিছু জায়গা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭ হাজার ফুটের বেশি উঁচুতে। বছরভর বরফে ঢাকা থাকে এই সমস্ত অঞ্চল। মনোরম প্রকৃতির টানেই মানুষের আসা যাওয়া লেগে থাকে পাহাড়ের কোলে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে। দেশ থেকে তো বটেই, ভিনদেশের বহু পর্যটকও ভিড় জমান সিকিমে। তাই রাজ্যের অর্থনীতির একটা বড় অংশ নির্ভর করে পর্যটনের উপর।
সিকিম সরকারের সিদ্ধান্তে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার মুখে পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটন ব্যবসায়ী সম্রাট সান্যাল বলেন, “সিকিমের সিদ্ধান্তের জেরে আতঙ্ক ছড়াবে দেশীয় পর্যটকদের মধ্যেও। আমরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে এই আশা করছি। গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। যাতে অযথা আতঙ্ক না ছড়ায়।’’
তবে সিকিম পর্যটনের পরামর্শদাতা ভ্রমণ গবেষক রাজ বসু বলেন, “করোনা ভাইরাস নিয়ে এখন গোটা বিশ্বে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। এর প্রভাব রুখতে প্রত্যেক রাজ্য সরকারই কিছু না কিছু ব্যবস্থা নেবেই। সিকিমও তাই করেছে। আর এটা মেনে নিতেই হবে। কারণ, সিকিমে গ্যাংটক ছাড়া অন্য কোথাও ভাল চিকিৎসার সুবিধা নেই। যারা সিকিমে বেড়াতে আসছেন তাদের ভালমন্দের দায়ও তো সরকারকেই নিতে হবে। এছাড়া কোনও উপায় নেই।”
তাই রুটিরুজির স্বার্থেই স্বাভাবিক অবস্থা কবে ফেরে, সেদিকেই এখন নজর পর্যটনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষদের।