দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ফের অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। জানিয়ে দিলেন কোনওভাবেই তিনি অনুব্রতর অধীনে কাজ করতে পারবেন না। সিদ্দিকুল্লার স্পষ্ট অভিযোগ, তাঁর অনুগামীদের ইচ্ছে করে গাঁজা কেসে ফাঁসিয়ে দিচ্ছেন অনুব্রত। এমনই ন’জনের তালিকা নিয়ে মঙ্গলবার জেলার পুলিশসুপারের সঙ্গে দেখা করেছেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।
মঙ্গলকোটের বিধায়ক হলেন সিদ্দিকুল্লা। অন্যদিকে বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভূক্ত পূর্ব বর্ধমানের তিনটি বিধানসভাকেন্দ্র আউসগ্রাম-মঙ্গলকোট ও কেতুগ্রামের দলীয় পর্যবেক্ষক হলেন বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর বিরুদ্ধে সিদ্দিকুল্লার ক্ষোভ আগেও ছিল। এদিন যেন ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিয়েছেন পাঠাগার ও জনশিক্ষা মন্ত্রী। জেলার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখার্জির সঙ্গে তিনি দেখা করেন। তার পর তাঁর হাতে ন’জনের নামের তালিকা তুলে দিয়ে জানান, এরা প্রত্যেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থক। সবাই জেলে রয়েছেন। তাঁর একের পর এক অনুগামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তাদের গাঁজা কেস দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রীর অভিযোগ, অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামীরাই তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা করছে। মিথ্যা মামলায় অনেকেই জেল খাটছেন। অনেকেই এখনও ঘরছাড়া। তারা ভয়ে ঘরে ঢুকতে পারছেন না। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন। দলকেও জানিয়েছেন। তাও ঘরছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকদের ঘরে ঢোকাতে পারেননি। কারণ তাতে অশান্তি হতে পারে। তিনি দাবি করেন, এলাকার ৯০ শতাংশ লোক তাঁর সঙ্গে রয়েছেন।
এখানেই না থেমে সিদ্দিকুল্লা এদিন বলেন, ‘‘অনুব্রত মণ্ডল বড় খেলোয়াড়। তাঁর মেজাজ আলাদা। সুতরাং তাঁর সঙ্গে আমি থাকব না। ওখানে বিজেপি বলে কেউ নেই। সবাই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থক। কিন্তু অনেকেই বর্তমান পরিচালকদের ভয়ে বিজেপি করছে।’’
তিনি অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলকোটে অজয় নদের ধারে ২২ টি বালিঘাট আছে। এগুলি বৈধ ঘাট। কিন্তু সেখানে একই স্লিপ দিয়ে এক গাড়ির জায়গায় বেশী সংখ্যক বালি বোঝাই গাড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ সবই হচ্ছে অনুব্রত মণ্ডলের মদতে। দেখার কেউ নেই। এহেন পর্যবেক্ষকের অধীনে যে তিনি থাকবেন না সেটাও এ দিন স্পষ্ট করে দেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। বলেন, ‘‘আমি অনুব্রতের অধীনে কাজ করতে পারব না। আমি স্বাধীন ভাবে কাজ করতে চাই।’’
মন্ত্রীর এমন অভিযোগের ব্যাপারে অবশ্য মুখ খোলেননি অনুব্রত। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি এ সব কিছুই জানি না।’’