
শেষ আপডেট: 10 April 2020 06:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: মা-বাবার কাছ থেকে কখনও সখনও পাওয়া পয়সা, বা আদর করে আত্মীয়দের দেওয়া টাকা। সবই জমা করা ছিল একটা মাটির ভাঁড়ে। নয় নয় করে হাজার চারেক টাকা হতেই ছোট্ট আদিত্য ঠিক করে ফেলেছিল এই টাকা দিয়ে একটা সাইকেল কিনবে সে। কিন্তু সেই সাইকেলটা আর কেনা হল না। পুরো টাকাটাই আদিত্য দিয়ে দিল করোনা মোকাবিলার জন্য তৈরি মুখমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে।
ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী গ্রাম গেদে উত্তরপাড়ায় বাড়ি আদিত্য মহলদারের। স্থানীয় স্কুলের ক্লাস ফোরের ছাত্র সে। এই কাজটা নাকি কেউ করতে বলেনি তাকে। টিভিতে খবর চলার সময় দেখেছিল কোথায় দুটো দাদা-দিদি তাদের জমানো টাকা তুলে দিচ্ছে করোনা থেকে বাঁচার জন্য। তখনই সে ভেবে ফেলে তার ভাঁড়ে যে ৪ হাজার ৩৫০ টাকা আছে তা দিয়ে দেবে সেও। এখন আর সাইকেল কেনার দরকার নেই।
সেই ইচ্ছের কথা আদিত্য প্রথম জানিয়েছিল তার জেঠু দীনবন্ধু মহলদারকে। এরপর জেঠুর সঙ্গে গিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাঁড়ের টাকা কৃষ্ণগঞ্জের বিডিও কামালউদ্দিন আহমেদের হাতে তুলে দিয়ে আসে আদিত্য। সেখানেই সে বলে, ‘‘একটা সাইকেল কিনব বলে ঠিক করেছিলাম। কিন্তু করোনা রোগে কত লোক মারা যাচ্ছে শুনছি। টিভিতে দেখলাম দু’টো দাদা দিদি তাদের জমানো টাকা দিয়ে দিচ্ছে সবার ভালোর জন্য। আমিও তাই আমার জমানো টাকা দিতে এসেছিলাম।’’ ছোট্ট আদিত্যর এই কাজে আপ্লুত কৃষ্ণগঞ্জের বিডিও।