দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: চার বছরেও পূরণ হয়নি প্রতিশ্রুতি! পুনর্বাসন না পেয়ে কনকনে শীতের রাতে রাজ্য সড়কের পাশে দিন কাটাচ্ছে সাত আদিবাসী পরিবার। ঘাটাল-চন্দ্রকোনা রাজ্য সড়কের ধারে মনসাতলা চাতাল এলাকায় বাস ওই সাত আদিবাসী পরিবারের।
জানা গেল ভোটার কার্ড রয়েছে তাঁদের। রয়েছে আধার কার্ডও। কিন্তু ঘর নেই। জবা সরেন, রূপালি মুর্মুরা জানাচ্ছেন, চার বছর ধরে তাঁরা গৃহহীন, প্রতিশ্রুতি অনেক মিলেছে। কিন্তু মেলেনি বাড়ি। কবে মাথার উপর একটা ছাদ হবে, সেই আশায় দিন গুনছেন ওঁরা।
অভিযোগ, বছর চারেক আগে ঘাটাল-চন্দ্রকোনা রাজ্য সড়ক সম্প্রসারণের সময় চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের দিয়াসা গ্রামের ৭ আদিবাসী পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। সেই সময় স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে পূর্ত দফতরের কর্মীরা তাঁদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাড়ি দেওয়া হবে তাঁদের। দেওয়া হবে সরকারি জায়গা। কিন্তু রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শেষের পরেও গড়িয়ে গেছে বেশ কয়েক বছর। তবুও মেলেনি বাড়ি ।
ঘটনার কথা স্বীকার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। চন্দ্রকোনার তৃণমূল বিধায়ক ছায়া দোলুই বলেন, ‘‘দ্রুত ওঁদের বাড়ির ব্যবস্থা করা হবে। চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের বিডিও রথীন্দ্রনাথ অধিকারীও বলেন, ‘‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
আর এতেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। এলাকার বিজেপি মণ্ডল সভাপতি সুশান্ত মণ্ডল বলেন, ‘‘তৃণমূলের নেতারা নিজেদের পকেট ভরতে ব্যস্ত, তাই এই আদিবাসী পরিবারগুলির কথা মনেই ছিল না তাঁদের। আমরা ক্ষমতায় আসলে ওদের বাড়ির ব্যবস্থা করব।’’
এই রাজনৈতিক টানাপড়েনে অবশ্য কিছুই যায় আসে না এই হতদরিদ্র পরিবারগুলির। মাথা গোঁজার আস্তানা করার মতো হাতের সম্বল নেই। বাধ্য হয়ে সরকারি আনুকূল্যের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা। আর রোদে পুড়ে জলে ভিজে কেটে যাচ্ছে বছরের পর বছর। সড়কের ধারে খোলা আকাশের নীচে কেটে যাচ্ছে একটা একটা করে বছর। কবে সরকার মাথার উপর ছাদ করে দেবে সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।