দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: করোনা ভাইরাস নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়ের হল এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। আলিপুরদুয়ার শহরের সূর্যনগর এলাকার বাসিন্দা ওই প্রাথমিক স্কুল শিক্ষিকাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালত থেকে জামিন নিতে হবে বলে জানিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি।
জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ারে একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি পোষ্ট করেছেন তিনি। সম্পূর্ণ মিথ্যে এই তথ্য নজরে আসার পরেই ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে স্বাস্থ্যদফতর। তারপরেই তাঁকে নোটিস পাঠায় পুলিশ।
আলিপুরদুয়ার জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুবর্ণ গোস্বামী জানান, প্রতিদিন কোন মিডিয়ায় কী লেখা হচ্ছে তা স্ক্যান করা হয়। পাশাপাশি নজর রাখা হয় সোশ্যাল মিডিয়ার উপরেও। তিনি বলেন, “আমাদের মিডিয়া স্ক্রিনিং সেল বিষয়টি দেখে। ওই শিক্ষিকা যে পোস্টটি দিয়েছেন তা পুরোপুরি মিথ্যে। এতে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তাই পুলিশকে জানাই আমরা।”
আলিপুরদুয়ারের পুলিশসুপার অমিতাভ মাইতি বলেন, “ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েই তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাই আদালতে উপস্থিত থেকে জামিন নিতে বলা হয়েছে তাঁকে। উনি একজন শিক্ষিকা। আদালতে গিয়ে যদি জামিন না নেন বা আগামীদিনেও এমন পোস্ট করেন তাহলে গ্রেফতার করা হবে তাঁকে।”
এর আগে আলিপুরদুয়ারে করোনার সঙ্গে ধর্মগ্রন্থ কোরানকে জুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করে গ্রেফতার হয়েছিলেন বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদক রতন তরফদার। আদালত তাঁকে চোদ্দ দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি এখনও জেলে রয়েছেন। কিন্তু সেই ঘটনার পরেও শিক্ষা হয়নি অনেকের। ফলে ফের আবার করোনা নিয়ে সোশ্য়াল মিডিয়াতে পোস্টের জেরে অভিযুক্ত হলেন ওই শিক্ষিকা।
জানা গিয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলাতে এই মুহুর্তে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন প্রায় ২৫ জন। তবে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই বলে জানিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা। আলিপুরদুয়ার জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, "সচেতনতা এই বিষয়ে অত্যন্ত জরুরি। অযথা আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। সবাই সাবধান থাকলে এই ভাইরাস ছড়াতে পারবে না। সকলে সরকারি নির্দেশ মেনে চলুন।”