দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে হাজিরা দিলেন রূপা গাঙ্গুলি।
২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী ডাক্তার জয়ন্ত রায়ের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারে জলপাইগুড়িতে এসেছিলেন রূপা। ওইদিন বিকেলে মাল থানা এলাকার ক্রান্তিতে তৃণমূলের একটি কর্মসূচি চলছিল। তিনি সেখান দিয়ে তাঁর গাড়িতে চেপে তৃণমূলের অনুষ্ঠান মঞ্চের সামনের রাস্তা দিয়ে ওদলাবাড়ি যাচ্ছিলেন। এই সভা থেকে তাঁর গাড়ির উপর পাথর বৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ তুলে মাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রূপা। সেই মামলার হাজিরা দিতেই বুধবার জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে উপস্থিত হন তিনি।
এদিন দুপুরে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে হাজিরা দিয়ে বেরিয়ে আসার পর রাজ্যসভার বিজেপি সদস্য রূপা বলেন, ‘‘ওইদিন আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঢিলের আঘাত লাগে আমার সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা একসিআরপিএফ কর্মীর মাথায়। এরপর আমরা কোনওভাবে পালিয়ে প্রথমে ক্রান্তি ফাঁড়িতে যাই অভিযোগ জানাতে। সেখানে অভিযোগ না নেওয়ায় আমি মাল থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।’’
রূপার প্রশ্ন, ‘‘যেখানে তৃণমূল কোনও অনুষ্ঠান করবে তার সামনের রাস্তা দিয়ে লোক চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা আছে কি? যদি না থাকে তবে আমার যাবার সময় পথ আগলে দাঁড়ানো হল এবং আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হল কেন? ঘটনায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে বয়ান নেয় পুলিশ। এবং অভিযুক্তরা পুলিশকে জানায় তারা আমার গাড়ি ভাঙা অবস্থায় দেখেছে। আমার প্রশ্ন পুলিশের অনুমতি নিয়ে ওই সময় তৃণমূল অনুষ্ঠান করছিল। মঞ্চের পাশেই পুলিশের ভ্যান দাঁড়িয়ে ছিল। যারা হামলা চালায় তাদের আমি চিনি না। স্থানীয় পুলিশও কি চেনে না?’’
তাঁর অভিযোগ, সেদিন তৃণমূলের পক্ষ থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মামলা করা হয়। সেই মামলার কোনও সমন তাঁকে পাঠায়নি পুলিশ। আজ মামলার হাজিরা দিতে এসে তিনি জানতে পারেন তাঁর নামে পাল্টা মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ কি এটাই চাইছিল যে আমাকে মামলার কথা জানাবেই না। আর আমি বেলের আবেদন করব না। এরপর একদিন আমাকে সমন পাঠিয়ে গ্রেফতার করবে?’’
রূপা গাঙ্গুলির আইনজীবী সাংহাই চৌধুরী দাস বলেন, ‘‘আমার মক্কেল রূপা গাঙ্গুলি আজ জলপাইগুড়ি আদালতে হাজির হয়ে আদালতকে জানিয়ে গেলেন ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল তিনি মাল থানায় যে অভিযোগ দায়ের করেছেন সেই সংক্রান্ত মামলায় আদালত যদি তাঁকে সমন পাঠায় তবে তিনি অবশ্যই আদালতে উপস্থিত হয়ে আদালতকে সবরকম সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত আছেন।’’