
শেষ আপডেট: 5 September 2020 15:14
তিনি জানান, বিয়ে হয়ে এই পরিবারে আসার পর থেকেই দেখেছেন শিক্ষকের ছবিকে ঈশ্বরের আসনে বসিয়ে পুজো করেন তাঁর স্বামী। সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হল তিনিও। মধুছন্দাদেবী বলেন, ‘‘শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রের যে সুমধুর সম্পর্ক তা যেন প্রতিটি ছাত্র আর শিক্ষকের মধ্যে বজায় থাকে। সেই আদর্শ নিয়ে আমি আজও নিয়মিত আমার স্বামীর শিক্ষককে ঠাকুরের আসনে বসিয়ে পুজো দিয়ে থাকি। আজ শিক্ষক দিবসের দিন। এই দিনটিতে আমরা প্রতিবছর সন্ধ্যায় আমার পুরো পরিবার নিয়ে তাঁর স্মৃতিচারণ করে থাকি। এখন প্রায়শই শোনা যায় শিক্ষক বকা দিলে বা একটু মারধর করলে ছাত্র বা ছাত্রী আত্মহত্যা পর্যন্ত করে থাকে। অথবা সেই শিক্ষকের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এটা কি এই সম্পর্কে মানায়?’’
তিনি জানান, এ বছর তাঁর বাড়িতে এই পুজো পঞ্চাশ বছরে পা দিল। তিনি বলেন, ‘‘তাই আমি চেয়েছিলাম আমার স্বামীর শিক্ষক সুধীরবাবুর ছেলেমেয়েদের নিমন্ত্রণ করে নিয়ে এসে এই দিনটি আমার বাড়িতে পালন করব। সুধীরবাবুর আদর্শের বহু কাহিনী স্বামীর মুখ থেকে শুনেছি। একজন অভিভাবক হিসেবে উনি কেমন ছিলেন তার আরও কিছু কথা শোনার ইচ্ছে ছিল সুধীরবাবুর পুত্র স্বনামধন্য চিকিৎসকের কাছ থেকে। কিন্তু করোনার জন্য তা বাতিল করতে হল। বেঁচে থাকলে আগামী বছর এই কাজ আমি নিশ্চয়ই করব।’’
আধুনিকতার ছোঁয়ায় শিক্ষক দিবস এখন গ্রেট সেলিব্রেশন। অধিকাংশ স্কুল বা টিউশন সেন্টারগুলিতে এই দিনটি এখন পালিত হয় কেক কেটে, গিফট আদানপ্রদান করে। জলপাইগুড়ির রায় পরিবার কিন্তু সেই সাবেকি ভাবেই পালন করল শিক্ষক দিবস। আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালবাসায়।