দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম যুবকের চিকিৎসার জন্য এলাকাবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছিল। সেই সময় পুলিশ নির্বিচারে মারধর করে গ্রামের যুবকদের। অভিযোগ এমনটাই। আর এরই প্রতিবাদে শনিবার সকালে সিউড়ি-রানিশ্বর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা। যদিও পুলিশের দাবি, পণ্যবাহী গাড়ি আটকে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা তোলা হচ্ছে। সেটা বন্ধ করতেই উদ্যোগী হয় পুলিশ। কোথাও কাউকে মারধর করা হয়নি।
শুক্রবার রাতে সিউড়ি থানার খটঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ১৯ বছরের যুবক সন্ন্যাসী ধীবর মোটরবাইক নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। রাজ্য সড়কের উপর পণ্যবাহী লরির ধাক্কায় গুরুতর জখম হন তিনি। প্রথমে তাকে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন গ্রামবাসীরা। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাঁকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা। পরে সঙ্কটজনক অবস্থায় কলকাতার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় তাকে।
গ্রামবাসীদের দাবি, ওই যুবক খুবই দুঃস্থ পরিবারের সন্তান। চিকিৎসার জন্য ন্যুনতম খরচ করারও সামর্থ নেই পরিবারের। তাই ওই যুবকের চিকিৎসার জন্য গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে তহবিল সংগ্রহ করছিলেন। সিউড়ি থানার পুলিশ এসে তাদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে। ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে প্রায় তিন ঘন্টা সিউড়ি থেকে রানিশ্বর যাওয়ার রাস্তার খটঙ্গাতে পথ অবরোধ করেন বাসিন্দারা।
তিলপাড়া সেতু মেরামতের জন্য আগামী একমাস পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তাই সমস্ত পণ্যবাহী গাড়ি এখন সিউড়ি থেকে রানিশ্বর হয়ে শেওড়াকুড়ি রাস্তায় যাওয়াআসা করছে। পুলিশের অভিযোগ, বেশি সংখ্যায় পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের সুযোগ নিয়ে ওই এলাকার বহু জায়গায় বেশকিছু মানুষ নানা অজুহাতে পণ্যবাহী গাড়ি থেকে টাকা আদায় করছে। শুক্রবার রাতে খটঙ্গায় ওই গ্রামের কিছু যুবক পণ্যবাহী গাড়ি থেকে টাকা আদায় করছিল। পুলিশ নিষেধ করাতেই সমস্যার সৃষ্টি হয়। যদিও বর্তমানে সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে। কোনও মারধরের ঘটনা ঘটেনি।