দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: গোটা জেলা নয়, গত এক বছরে শুধুমাত্র বর্ধমান শহরে একের পর এক অপরাধের ঘটনার বেশির ভাগেরই কোনও কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এমন অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন বর্ধমান শহরের বাসিন্দারা। পাশাপাশি তৈরি হয়েছে আতঙ্কও। তবে পুলিশের পাল্টা দাবি, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই অপরাধীদের খোঁজ চলছে।
তাঁদের অভিযোগ, গত বছরের অগষ্ট মাস থেকে এ বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে শহরে দুষ্কৃতীদের কার্যকলাপ জারি। পুলিশও তদন্ত করছে। কিন্তু ওই পর্যন্তই। কিনারা হয়নি বেশিরভাগ অপরাধের। গত বছরের আগষ্ট মাসের শেষের সপ্তাহে শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে লাগাতার অপরাধের ঘটনা ঘটে। প্রথমে বর্ধমান শহরের জিটি রোডের উপর কৃষ্ণপুরে একটি দোকানে বোমা ছোড়া হয়। অভিযোগ, ঘটনা ঘটার কিছুক্ষণ আগেই দোকানের মালিকের মোবাইলে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করে ফোন করেছিল দুষ্কৃতীরা।
তার ঠিক দু'দিন পরে রাতে ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। শহরের একেবারে কেন্দ্রস্থলে জিটি রোডের ঢলদিঘির কাছে একটি বিরিয়ানির দোকানের মালিকের মোবাইলে ফোন করে দশ লক্ষ টাকা দাবি করে দুষ্কৃতীরা। এরপর রাত ১১টা নাগাদ দোকান বন্ধ করার সময় রাস্তা থেকে বোমা ছোড়া হয় ওই দোকান লক্ষ্য করে। বোমার টুকরো লেগে জখম হন দোকানের ৬ জন কর্মী। বোমাটি যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল বলে পরে জানায় পুলিশ। একেবারে কার্জনগেটের কাছে এবং বর্ধমান থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে দুষ্কৃতীদের এমন তাণ্ডবে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কিত হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা।
ওই রাতেই পথ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে বর্ধমানের বাজেপ্রতাপপুরে। বর্ধমান-কাটোয়া রোডের বাজেপ্রতাপপুরে ডাম্পারের ধাক্কায় এক সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরেই স্থানীয় বাসিন্দারা মৃতদেহ রাস্তায় ফেলে পথ অবরোধ করেন। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে অবরোধকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। সেই সুযোগে একজন পুলিশ কর্মীর সার্ভিস রিভলবারও ছিনতাই হয়ে যায়। এক বছর পেরিয়ে গেলেও তিনটি ঘটনার একটিরও কোনও কিনারা করতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন।
গত মাসে বর্ধমান শহরের জিটি রোডের লক্ষ্মীপুরমাঠের বাদশাহী রোড এলাকায় শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে গৌতম দাস নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। রাতে তৃণমূল নেতা বিকাশ মণ্ডলের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয়। বিকাশ মণ্ডলকেও মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। ঘরের ভিতরে ফ্রিজ, আলমারি, মোটরবাইক ভাঙচুর করা হয়। অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
তারপর শুক্রবার ভরদুপুরে বর্ধমান থানা থেকে একেবারে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে গোল্ড লোন সংস্থার অফিসে হানা দেয় দুষ্কৃতীরা। তাদের বাধা দিতে গিয়ে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়। সংস্থার কর্মীদের মারধর করে ৩০ ভরি সোনা লুঠ করে চম্পট দেয় ডাকাতদল। বিসিরোডের মত জনবহুল জায়গায় ডাকাতি ও গুলি চালানোর ঘটনায় রীতিমত বাসিন্দারা হতবাক। এক্ষেত্রেও এখনও ধরা পরেনি ডাকাতরা। এই এলাকার ব্যবসায়ী সুবীর সাউ বলেন, ‘‘তদন্ত চলছে বলে বলছে পুলিশ। কিন্তু শহরের সাধারণ নাগরিক থেকে ব্যবসায়ীরা ভয়ে জেরবার। দুষ্কৃতীরাজ চলছে। পুলিশের ভূমিকায় আমরা কেউ খুশি না।’’
আরেক ব্যবসায়ী রাজীব সোম বলেন, ‘‘এগুলো বড় ঘটনা। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই পথচারীদের গলা থেকে সোনার চেন কিংবা ব্যাগ থেকে মোবাইল ছিনতাই করে পালাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। এসব আকচারই ঘটছে। সব নিয়ে চিন্তা আমাদের।’’
জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখার্জী অবশ্য বলেন, ‘‘এমনটা নয় যে অপরাধ হচ্ছে আর পুলিশ কিছু করছে না। পুলিশ তদন্ত করে অপরাধীদের ধরছে। প্রয়োজনে সিআইডির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। শহরের তেজগঞ্জে বৃদ্ধ খুনের কিনারা হল ঘটনার দু'সপ্তাহের মধ্যে। সুতরাং পুলিশ সক্রিয় আছে। অপরাধীরা ধরা পড়বেই।’’