দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরত গিয়ে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের হাতে ১৭ জন মৎস্যজীবী গ্রেফতারের খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে তাঁদের পরিবার। এফবি শিবানী নামে ওই ট্রলারটিতে যে ১৭ জন মৎসজীবী ছিলেন, তাঁরা সবাই কাকদ্বীপের হারউড পয়েন্ট উপকূল থানা এলাকার বাসিন্দা। ট্রলারটি আদৌ ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জল সীমানা পার করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছিল কি না তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে দাবি করেছেন মৎস্যজীবী সংগঠনের কর্মকর্তারা।
আটক ট্রলারের সব মৎস্যজীবীকে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড মঙ্গলাপাট থানার পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার এই খবর পৌঁছনোর পর থেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন মৎস্যজীবীদের পরিবারের লোকজন। ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মৎস্যজীবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কাকদ্বীপের মৎস্যজীবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আটক মৎস্যজীবীদের ফেরাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
মৎস্যজীবী সংগঠন সূত্রের খবর, গত ২৯ নভেম্বর ১৭ জন মৎসজীবীকে নিয়ে কাকদ্বীপ থেকে রওনা দেয় এফবি শিবানী নামে ট্রলারটি। মঙ্গলবার আচমকা ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় গভীর সমুদ্রে ভারতীয় জলসীমানার মধ্যেই ট্রলারটি ভাসতে থাকে। সেই সময় পূর্ব দিকে স্রোত থাকায় ট্রলারটি বাংলাদেশের দিকে ক্রমশ ভেসে যেতে থাকে। আর তখনই ট্রলারটিকে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড আটক করে। এরপর ভারতীয় মৎস্যজীবীদের বুধবার বাংলাদেশ উপকূলে নামানো হলে ট্রলার মালিককে ফোন করে ঘটনার কথা জানান মাঝি।
এই ট্রলারেই ছিলেন কাকদ্বীপের মাইতিরচকের বাসিন্দা তরুণ মৎস্যজীবী সুরজিৎ দাস। আগের ট্রিপগুলোতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন সুরজিতে বাবা। তাঁর হাতে চোট লাগায় এবারের যেতে পারেননি তিনি। মরসুম শুরুর আগে ট্রলার মালিকের কাছ থেকে দাদন (ঋণ) নিয়েছিলেন সুরজিতের বাবা। তাই ছেলে সুরজিতকে পাঠিয়েছিলেন। অন্যান্য মৎস্যজীবীদের সঙ্গে সুরজিতও বাংলাদেশে আটকে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের লোকজন। কবে তাঁদের ছেলে ঘরে ফিরবে সেই চিন্তাতেই নাওয়া-খাওয়া ভুলে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সুরজিতের মা অঞ্জনা দাস।