দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: কোভিডের ভয় আর সংক্রমণ রুখতে সতর্কতা সব পাশে নিয়েই রাস উৎসবে মেতে উঠল শান্তিপুর।
এ শহরের ভাঙা রাসের শোভাযাত্রা থেকে রথযাত্রা, সপ্তম দোল থেকে জগদ্ধাত্রী পুজো-সব উৎসবের গায়েই জড়ানো রয়েছে আশ্চর্য সব কাহিনীর নকশাদার রঙিন চাদর। ভক্তদের বিশ্বাস সবই সত্য। পুরাণে বলে স্বয়ং মহাদেব ছদ্মবেশে ঢুকে পড়ায় ভেঙে গিয়েছিল শ্রীকৃষ্ণের রাস। কারণ রাস উৎসবে পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া অন্য কোনও পুরুষের প্রবেশাধিকার ছিল না। ধরা পড়ে মহাদেব বলেছিলেন কলিতে তিনি সকল ভক্তকে রাসদর্শন করাবেন। অদ্বৈতাচার্য প্রথম শান্তিপুরের রাসের সূচনা করেন। ভক্তরা মনে করেন তিনি মহাদেবের অংশ।
শান্তিপুরের রাস উৎসব শুরু হচ্ছে আজ থেকে। সকাল থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি সর্বত্র। ক্লাব বারোয়ারি থেকে শুরু করে বিগ্রহ বাড়ি উৎসবমুখর। শুধু নদিয়া জেলা নয়, জেলার বাইরে থেকেও প্রচুর মানুষ ভিড় জমান এই রাস উৎসবে। প্রাচীনত্ব আর ইতিহাস জড়িয়ে আছে উৎসবকে ঘিরে। বৈষ্ণব এবং শাক্ত মতের মিলনক্ষেত্র শান্তিপুরের রাস উৎসব। বৈষ্ণবীয় প্রথায় রাস উৎসব চালু হলেও পরে শাক্ত মতও মিশেছে সেখানে। প্রথম রাস, দ্বিতীয় রাস ও ভাঙা রাস এই ভাবেই রাস উৎসব পালিত হয়। একদিনের জন্য রাধারাণীকে রাইবেশে রাজা সাজিয়ে সারা শহর ঘোরানো হয়, এটাও বিশেষ আকর্ষণ শান্তিপুরের রাসের। কিন্তু
প্রতিবছর বিগ্রহ বাড়ি ও বারোয়ারিগুলোর সুদৃশ্য মণ্ডপ শয্যা দেখতে লাখো মানুষ ভিড় জমান শান্তিপুর শহরে। নিয়ন আলোর ঝলক কলকাতার বড় বড় পুজো মণ্ডপকেও যেন হার মানায়। কিন্ত এবার করোনা জন্য ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার জাঁকজমকে রাশ টেনেছে প্রশাসন। মণ্ডপ তৈরির ক্ষেত্রে রয়েছে সরকারি বিধিনিষেধ। সবমিলিয়ে অদ্বৈতাচার্যর সাধনভূমি শান্তিপুরের জগদ্বিখ্যাত ভাঙা রাস এবার হতে চলেছে শুধুই নিয়ম-রক্ষার।