দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: করোনা পরিস্থিতিতে আঘাত নেমেছে গোটা পৃথিবীর মানুষের জীবনেই। রুটিরুজি হারিয়ে দিশাহারা অবস্থা। এই বৃত্তের বাইরে নয় এই দেশ ও রাজ্যও। করোনার থাবায় বন্ধ হচ্ছে একের পর এক উৎসব। যার ফলে সংকট গাঢ় হচ্ছে উৎসবের নানা অনুসঙ্গের সঙ্গে জীবিকা জড়িয়ে থাকা মানুষদের।
নদিয়া জেলার রানাঘাট পুরসভার রূপশ্রীপল্লি, শরৎপল্লি এলাকায় ঘরে ঘরে রাখি তৈরির কারখানা। রাখি পূর্ণিমার আগে ব্যস্ততা তুঙ্গে ওঠে এখানকার শিল্পীদের। গোটা বছর এই সময়টার দিকেই তাকিয়ে থাকেন তাঁরা। তাঁদের হাতে তৈরি হওয়া রাখি চলে যায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। এমনকি ভিনরাজ্যের দোকানও সেজে ওঠে এখান থেকে পাঠানো রাখির পসরায়।
উৎসবের দু-তিন মাস আগে থেকেই রাখি বানানোর কাজে হাত লাগান এখানকার আট থেকে আশির মানুষজন। তাঁদের সিংহভাগই পূর্ববঙ্গ থেকে আসা। কারিগরদের হাতে তৈরি রাখি একেবারে পাঁচ টাকা থেকে শুরু করে একশো-দুশো টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়। সুদিনের মুখ দেখেন রূপশ্রীপল্লি, শরৎপল্লির মানুষজন। এটাই এখানকার চেনা ছবি। করোনার দাপটে যা এবার পুরোপুরি উধাও।
যদি সব কিছু ঠিক হয়ে যায় এমন ভাবনায় রাখি তৈরি শুরু হয়েছিল। শুরু হয়েছিল পসরা সাজানোও। কিন্তু পূর্ণিমা যত কাছে আসছে ততই বোঝা যাচ্ছে রাখি কেনার লোক নেই। কারিগররা জানালেন, তাঁদের ঘরে জমছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাখি। ট্রেন বন্ধ। বন্ধ স্কুল-কলেজও। তাই বিক্রি একেবারেই নেই। এদিকে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। বেড়েছে মজুরিও। আগামীতে কী করবেন ভেবে দিশেহারা এই তল্লাটের রাখির কারিগর ও ব্যবসায়ীরা।
কারিগর মঙ্গল দাস বলেন, ‘‘আমাদের কাছে মালিকরা সমস্ত জিনিসপত্র কিনে দেন। আমরা তা দিয়েই রাখি বানাই। মূলত পারিবারিক ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতেই এই শিল্পের সাথে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু এ বছর যা অবস্থা একটিও রাখি বিক্রি নেই। আমাদের মজুরি কী ভাবে মেটাবেন মালিকরা?’’ ব্যবসায়ী সাধন চন্দ বলেন, ‘‘স্কুল কলেজ ট্রেন সবই বন্ধ। যার ফলে বিক্রি একেবারেই নেই। অন্যান্য বছর এই সময় হাজার হাজার টাকার রাখি বিক্রি করি আমরা। এবার একশো টাকারও বিক্রি নেই।’’
করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণ রুখতে বহু জায়গাতেই স্থগিত হয়ে গেছে ঝুলন উৎসব। ভাইদের মঙ্গল কামনায় তাঁদের হাতে রাখি বেঁধে দেওয়ার প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষাও এবার সম্ভব হবে কিনা জানা নেই অনেকেরই। রাখির বাজারে তার ছাপ পড়তে শুরু করেছে।