দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ২০২১ জনগণনায় সারনা ধর্মকে পৃথক কোড কলাম হিসেবে লাগুর দাবিতে রেল অবরোধ হল বর্ধমান-হাওড়া কর্ড শাখার জৌগ্রামে।
ভারতের পাঁচ রাজ্যে আদিবাসী ‘সারনা ধর্ম কোড ’চালুর দাবিতে ফের আন্দোলনে নামল ‘আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযান’ নামে সংগঠনের সদস্যরা। রবিবার তারা হাওড়া-বর্ধমান কর্ড শাখার জৌগ্রাম স্টেশনে রেলপথ অবরোধ করে। সংগঠনের সদস্যরা বেলা দেড়টা থেকে রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তবে ওই সময়ে আপ কিংবা ডাউন লাইনে কোনও লোকাল বা দূরপাল্লার ট্রেন না আসায় যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়নি।
এদিনের রেলপথ অবরোধ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন সংগঠনের পূর্ব বর্ধমান জেলার সভাপতি লক্ষ্মীনারায়ণ মু্র্মু। ঘন্টা খানেক অবরোধ চলার পর রেল পুলিশ ও জামালপুর থানার পুলিশ এসে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। আদিবাসী নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়েছে কেন্দ্র সরকার তাদের দাবি না মানলে তাঁরা অনির্দিষ্ট কালের জন্য রেল ও সড়কপথ অবরুদ্ধ করে দেবে ।
আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযানের জেলা সভাপতি লক্ষ্মীনারায়ণ মুর্মু বলেন, ‘‘আদিবাসীরা হিন্দু , মুসলিম কিংবা খ্রিষ্টান নয়। আদিবাসীদের ধর্ম হল সারনা ধর্ম। আদিবাসীরা প্রকৃতির পূজারী। ২০২১ সালের জনগণনায় সারনা ধর্মকে পৃথক কোড কলাম হিসাবে লাগুর দাবিতে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। ঝাড়খণ্ডে হিন্দি ভাষার সঙ্গে সাঁওতালি ভাষাকে রাজভাষার স্বীকৃতি দাবি এবং অসম ও আন্দামানে আদাবাসীদের এসটি সূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি আমরা।’’
সিধু কানুর বংশধর রামেশ্বর মুর্মুকে হত্যার ঘটনার সিবিআই তদন্ত ও ন্যায় বিচারের দাবিও তোলেন আন্দোলনকারীরা । পাশাপাশি সিধু মুর্মু ও বিরসা মুণ্ডার পরিবার ও বংশধরদের জন্য সরকারকে ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে হবে বলেও এদিন আদিবাসীরা দাবি করেছেন। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের সরকার কী ব্যবস্থা নেয় এখন সেদিকেই তাকিয়ে আন্দোলনকারী আদিবাসীরা।