দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: করোনা আবহের জন্য শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী রাসের শোভাযাত্রাও এবার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিল প্রশাসন। শনিবার শান্তিপুর থানায় প্রশাসনিক বৈঠকের পর ওই নির্দেশ দেওয়া হয়।
রানাঘাটের পুলিশ সুপার ভিএসআর অনন্তনাগ জানান, মহামান্য উচ্চ আদালতের নির্দেশ প্রত্যেক পুজো কমিটিকে মেনে চলতে হবে। শান্তিপুরের মোট ৩৭টি বিগ্রহ বাড়ি এবং প্রায় ৩০০টি বেশি বারোয়ারি রাস কমিটি রয়েছে। এবছর রাস দেখার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রত্যেকটি পুজোমণ্ডপে মাস্ক, স্যানিটাইজার থাকা বাধ্যতামূলক। এবং দর্শনার্থীদের জন্য পুজোমণ্ডপের প্রবেশের ক্ষেত্রে খোলা রাখতে হবে।
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকেও হার মানায় শান্তিপুরের রাস। প্রতিবছর রাসের সময় লাখো মানুষের সমাগম হয়। শান্তিপুরের ভাঙা রাশের শোভাযাত্রাও বেশ আকর্ষণীয়। ঐতিহ্যশালী রাইরাজা সহ বারোয়ারি বিগ্রহ মন্দির সকলেই প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলবেন বলে উদ্যোক্তারা জানান।
পুরাণ বলে, স্বয়ং মহাদেব ছদ্মবেশে রাসে ঢোকায় ভেঙে গিয়েছিল শ্রীকৃষ্ণের রাস। কারণ রাস উৎসবে পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া আর কোনও পুরুষের প্রবেশাধিকার ছিল না। ধরা পড়ে গিয়ে মহাদেব বলেছিলেন, কলিতে তিনি সমস্ত ভক্তকে রাসদর্শন করাবেন। শোনা যায়, শান্তিপুরে প্রথম রাসের সূচনা করেন অদ্বৈতাচার্য। ভক্তরা মনে করেন তিনি মহাদেবের অংশ।
শান্তিপুরের রাস নদিয়া জেলার ধর্মীয় উৎসবগুলির মধ্যে অন্যতম। শুধু নদিয়া জেলা নয়, জেলার বাইরে থেকেও প্রচুর মানুষ সামিল হন রাস উৎসবে। ইতিহাস আর কিংবদন্তী জড়িয়ে আছে রাস উৎসবের পরতে পরতে। বৈষ্ণব মতে রাস উৎসব চালু হলেও পরে শাক্ত মতও এসে মেলে। বিভিন্ন দেবদেবীর পুজো হয় রাস পূর্ণিমাতে।
ভাঙা রাসের অন্যতম আকর্ষণ শোভাযাত্রা। প্রথম রাস, দ্বিতীয় রাস ও ভাঙা রাস এই ভাবেই পালিত হয় উৎসব। একদিনের জন্য রাধারাণীকে রাজা সাজিয়ে সারা শহর ঘোরানো হয়। সেই শোভাযাত্রা নিয়ে মেতে ওঠেন মানুষ। এ বার কোভিডের বাধা সেই রাশ উৎসবেও। বিধি মেনে নিয়মরক্ষার জন্য তৈরি হচ্ছে শান্তিপুর।