দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: বরাবরই নির্বাচন এগিয়ে এলেই একেবারে সামনের সারিতে চলে আসে পাহাড় সমস্যা। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলো। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না।
বিধানসভা নির্বাচন আসতেই গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে বজায় রেখেই বাস্তবসম্মত নানা প্রস্তাব নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়ে গেছে সব দলের অন্দরে। জিএনএলএফ বরাবরই ষষ্ঠ তফশিলকেই সমস্যার সমাধান বলে মনে করছে। এখনও তাই। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল শিবির আবার ইউনিয়ন টেরিটরির প্রস্তাব ভাসিয়ে রেখেছেন। তাঁদের তরফে সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি বারবারই গোর্খাল্যান্ডকে ইউনিয়ন টেরিটরি করার প্রস্তাব দিচ্ছেন।
গোর্খা জনমুক্তি মোর্চারই বিনয় তামাং শিবির আবার পাহাড়ের উন্নয়নে অল ইন্ডিয়া গোর্খা অ্যাসেম্বলি গঠনের পক্ষপাতী। বিনয় তামাং বলেন, ‘‘সারা দেশের গোর্খা অধ্যুষিত এলাকার প্রতিনিধিদের নিয়ে এই বোর্ড কাজ করবে। কেন্দ্র সরকারকে কেন্দ্রীয় স্তরে এই বোর্ড গঠন করতে হবে।’’ আপাতত এই দাবি নিয়ে প্রচারও শুরু করেছেন বিনয়রা। তাঁদের এই দাবিকে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল বলেই মনে করছে পাহাড়ের ওয়াকিবহাল মহল। কারণ এই অ্যাসেম্বলীর সাংবিধানিক বৈধতা বা কীভাবে তা কাজ করবে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও দিশা এখনও মেলেনি। ফলে ভোট দুয়ারে আসতেই কিছু প্রস্তাব ভাসিয়ে দিয়ে বিনয় তামাং শিবির হাওয়া টানতে চাইছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
একইসঙ্গে ভারত-নেপাল এবং ভারত-ভুটান চুক্তিও নতুন করে পর্যালোচনার দাবি তুলেছেন বিনয় তামাং। বিনয় জানিয়েছেন, দেশের মানুষের সুরক্ষার স্বার্থেই এই চুক্তি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি জিটিএ এলাকাকে কেন্দ্রীয় সরকারের নর্থ-ইস্ট কাউন্সিলের অন্তর্ভুক্তির দাবিও তুলেছেন তিনি। তাঁর মত, এতে পাহাড়ের শিল্প স্থাপন সহ বিভিন্ন উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
দীর্ঘ আত্মগোপনের পর রাজ্য সরকারের সহায়তায় পাহাড়ে ফিরেছেন বিমল গুরুং। তারপর থেকেই তেতে উঠেছে পাহাড়ের রাজনীতি। পাহাড়ের মানুষের পাশে কে, তাই নিয়ে বিমল-বিনয় বাকযুদ্ধ চলছে অবিরতই। যা ভোটের মুখে নতুন মাত্রা পেয়েছে।