দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ : দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এখনও ভুতের আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে গাজোলের কদমতলি গ্রামের বাসিন্দাদের। এরই মধ্যে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে মৃত দুই শিশুকে মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিয়ে এসে কদমতলি গ্রামে কবর দিয়ে ফেলে তাদের পরিবারের লোকজন। বিষয়টি জানতে পেরে শনিবার গভীর রাতে গাজোল থানার পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার অফিসারের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে দু’টি মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে ওই দুই শিশুর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এই ঘটনায় জড়িত ইতিমধ্যেই আব্দুল রফিক নামে এক ওঝাকে গ্রেফতার করেছে গাজোল থানার পুলিশ। ধৃতকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার জন্য রবিবার মালদহ আদালতে আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
কীভাবে পুলিশ ও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ময়নাতদন্ত না করেই দুই শিশুর দেহ কবর দেওয়া হয়, তা নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও এ ব্যাপারে গাজোল থানার ওসি হারাধন দেব কোনও মন্তব্য করেননি। তবে পুলিশের একটি সূত্রের খবর মেডিকেল কলেজ থেকে মৃত দুই শিশুকে সকলের অজান্তেই নিয়ে চলে গিয়েছিল পরিবারের লোকজন।
এদিকে রবিবার সকালে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আলাল গ্রাম পঞ্চায়েতের কদমতলি গ্রামে যান ব্লক প্রশাসন ও বিজ্ঞানমঞ্চের কর্মীরা। ওই গ্রামে যে এখনও ভুত আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে তা জানতে পেরে রীতিমতো হতবাক হয়ে গিয়েছেন তাঁরা।
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের মালদহ জেলা সম্পাদক সুনীল সরকার বলেন, “গাজলের কদমতলি গ্রামে ভূতে ধরেছে ভেবে অসুস্থ শিশুদের ঝাড়ফুঁক ও পরে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। বিজ্ঞান মঞ্চ এবং প্রশাসনের সচেতনতায় এই ধরনের কুসংস্কার আগের থেকে অনেক কমে গিয়েছে বটে, তবে পুরোপুরি যে নির্মূল হয়নি, এ দিনের ঘটনা তার প্রমাণ।”
শুক্রবার রাতে কদমতলি গ্রামের জঙ্গলে খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে ৪টি শিশু। হাসপাতালে না নিয়ে ভূতে ধরেছে ভেবে পরিবারের লোকেরা চার শিশুকে অসুস্থ অবস্থায় ওঝার কাছে নিয়ে যায়। কয়েকঘন্টা ধরে ওঝার কেরামতিতে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই চার শিশু। পরে মৃত্যু হয় শফিকুল আলম (৫) এবং ফিরোজুর রহমানের (৭)। হাসপাতালে ভর্তি শাবনুর খাতুন (৩) এবং কোহিনুর খাতুনের(৬) অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। বিষয়টি জানাজানি হতেই জেলা প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার রাতেই ওঝা আব্দুর রফিককে তার কদমতলি গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বিষ জাতীয় কোনও ফল খাওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল ওই চার শিশু। এরপরই সঠিক সময়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে না নিয়ে গিয়ে ওঝার দ্বারস্থ হওয়াতেই এই মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে।
জেলার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চালানোর পাশাপাশি এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।