দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: রেলে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা চক্রের ১৬টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ পেল পুলিশ। অ্যাকাউন্টগুলিতে মোটা টাকার লেনদেন হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের টাকা ওই অ্যাকাউন্টগুলিতেই জমা পড়েছে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ধৃতদের জেরা করে অ্যাকাউন্টের তথ্য ব্যাঙ্ক থেকে সংগ্রহ করেছেন তাঁরা। এই অ্যাকাউন্টগুলিতে বেশ কয়েকজন প্রতারিত ব্যক্তি টাকা জমা দিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ব্যাংক থেকে আরও তথ্য জোগাড় করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
ধৃতদের কাছ থেকে একআইএস অফিসারের নকল রবার স্ট্যাম্পও পেয়েছে পুলিশ। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য দফতরের জাল রবার স্ট্যাম্পও উদ্ধার করেছে পুলিশ। জাল নিয়োগপত্র তৈরির জন্য ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও প্রিন্টারও বাজেয়াপ্ত করেছে।
ধৃতদের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে আরও কিছু তথ্য মিলতে পারে বলে পুলিশের অনুমান। মোবাইলের তথ্য পেতে বর্ধমানের সাইবার থানার সাহায্য নিচ্ছে আউশগ্রাম থানার পুলিশ। চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত বলে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জেনেছে পুলিশ। খোঁজ মিলেছে আরও কয়েকজন প্রতারিত ব্যক্তির। তাঁদের বয়ানও নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। ঘটনায় ধৃত দিবাকর রায় ও রাজেশ প্রামাণিককে আরও ছ’দিন হেফাজতে নেওয়ার জন্য শুক্রবার সিজেএম আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন তদন্তকারী অফিসার। সোমবার সেই আবেদনের শুনানি হবে। সেদিন ধৃত দু’জনকে আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন সিজেএম সুজিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
পয়লা অক্টোবর দিবাকর ও রাজেশকে গ্রেফতার করে আউশগ্রাম থানার পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগণার ব্যারাকপুর ও বীজপুর থানা এলাকায় ধৃতদের বাড়ি। রেলে গ্রুপ-ডি পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে বহু বেকার ছেলে-মেয়ের কাছ থেকে ধৃতরা লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে শিয়ালদহ ও হাওড়ায় ইন্টারভিউয়ের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। পরে তাঁদের রেলের সিল দেওয়া ভুয়ো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল।
এই মামলায় পুলিশ প্রথমে বর্ধমান থেকেই পূর্ণিমা দে, তার স্বামী গোবিন্দ দে, ভৈরব বন্দ্যোপাধ্যায়, রতন রায় ও মতিলাল কোনারকে গ্রেফতার করে। পূর্ণিমা ও ভৈরবকে হেফাজতে নিয়ে রেলের ভুয়ো নিয়োগপত্র বিলি চক্রে দিবাকর ও রাজেশের জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পারে। দিবাকরের অ্যাকাউন্টে বহু চাকরি প্রার্থীর টাকা পাঠিয়েছে বলে জেরায় জানায় ভৈরব। তারপরেই গ্রেফতার করা হয় দিবাকর ও রাজেশকে।