দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: জোড়া খুনে অভিযুক্তকে নিয়ে ভাতারের বাসুদা গ্রামে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করাতে গিয়ে বাসিন্দাদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পুলিশ। গ্রামবাসীরা অভিযুক্ত কৃষ্ণ মালিককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধরের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আরও বাহিনী সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ভাতার থানার ওসি প্রণব বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনওক্রমে কৃষ্ণ মালিককে ভাতার থানায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়।
সোমবার গভীর রাতে ভাতারের বাসুদা গ্রামে মাসি শাশুড়ি ও মেসো শ্বশুরের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল জামাই কৃষ্ণ মালিকের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছিল কৃষ্ণর মাসি শাশুড়ি জ্যোৎস্না মালের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় তাঁর স্বামী অজিত মালকে। মঙ্গলবারই মেমারির হাঁসপুকুর থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত কৃষ্ণকে। বুধবার সকালে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান অজিত মালও।
এরপরেই জোড়া খুনে অভিযুক্ত কৃষ্ণকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য বাসুদা গ্রামে যায় পুলিশ। আর গ্রামে ঢুকতেই তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়ে। সে সময় অজিত মালের সৎকারের জন্য সেখানে জড়ো হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা দাবি জানাতে থাকেন ধৃতকে তাঁদের হাতে তুলে দিতে হবে। খবর পেয়ে বিশাল বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ভাতার থানার ওসি। কোনওরকমে সেখান থেকে অভিযুক্তকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে হুগলির পাণ্ডুয়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ভাতারে বাপের বাড়িতে চলে এসেছিলেন কৃষ্ণর স্ত্রী। তারপর থেকেই কখনও ভাতারের কুমারুণ গ্রামে বাবার বাড়িতে কখনও বাসুদা গ্রামে মাসির বাড়িতে থাকতেন। স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কও তৈরি হয়েছিল। রবিবার তার প্রেমিকও বাসুদা গ্রামে চলে আসে। এই খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে পাণ্ডুয়া থেকে বাসুদা গ্রামে আসেন কৃষ্ণ। স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি যেতে রাজি হননি। কৃষ্ণ তখনকার মতো ফিরে যায় বোনের বাড়ি খুড়ুল গ্রামে। রাতে ফিরে এসে বারান্দায় শুয়ে থাকা মাসি শাশুড়ি ও মেসো শ্বশুরের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। গ্রেফতারের পর কৃষ্ণকে আদালতে তোলা হলে চারদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, জেরায় অভিযুক্ত জানিয়েছে মাসি শাশুড়ি ও মেসো শ্বশুরকে মারার উদ্দেশ্য তার ছিল না। ওই বাড়ির বারান্দায় রাতের অন্ধকারে স্ত্রী তার প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে শুয়ে আছে বলে মনে করেছিল কৃষ্ণ। তাদের দুজনকে পুড়িয়ে মারার জন্যই পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগায় সে।